বিজ্ঞপ্তি
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ. দেশের জনপ্রিয়  voiceofchandpur.com অনলাইন নিউজ-এ জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিটি থানায়. একজন থানা প্রতিনিধি ও প্রতি জেলায় একজন জেলা প্রতিনিধি  নিয়োগ দেওয়া হবে। 
সদরঘাটে কুলিদের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি

সদরঘাটে কুলিদের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর সদরঘাটে চলছে কুলিদের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি। আর কুলিদের (ঘাট শ্রমিক) হাতে হয়রানি শিকার হচ্ছেন অসহায় যাত্রীরা। অথচ যাত্রীসেবার জন্য সরকারি পয়সায় দৈনিক ভাতা দিয়ে কুলিদের ‘পুষছে’ ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুপুর পৌনে তিনটা, সদরঘাট টার্মিনাল। চাঁদপুর থেকে এমভি রাসেল-৩ লঞ্চে ঢাকায় এসেছেন ইমরান হোসেন (ছদ্মনাম)। চটের ব্যাগ, বস্তায় কিছু আম, বেগুন, কচুর ডগা, ডাটা শাক সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তিনি।

টার্মিনালে নামার আগেই লঞ্চের ডেকে হলুদ জামা পরা একদল কুলি ইমরান ও ‍তার সঙ্গে আসা সবাইকে ঘিরে ধরে। তাদের সঙ্গে থাকা চটের ব্যাগ, বস্তার জন্য ‘ঘাটের টাকা’ দিতে হবে বলে ১৫’শ টাকা দাবি করে।

মালামাল নিজে বহন করলেও এ টাকা দিতে হবে। ইমরান ২০০ টাকা দিতে চাওয়ায় ব্যাগ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করে এবং হুমকি-ধমকিও দেয় কুলিরা।

সংঘবদ্ধ এই চক্র এভাবে ব্যাগ, বস্তা, লাগেজ সঙ্গে থাকা লঞ্চ যাত্রীদের টার্গেট করে এবং চাঁদাবাজি করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ঘাটের টাকা’র নাম করে চাঁদা তোলা তো দূরের কথা যাত্রীদের অনুমতি ছাড়া তাদের মালামালে হাত দেওয়ারও সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু চাঁদাবাজি আর যাত্রী হয়রানিই নয় সদরঘাট টার্মিনালে চলছে নানা অনিয়ম। যার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদরঘাট সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কুলিদের মাধ্যমেঅবৈধ ভাবে সংগ্রহ করা টাকার অংকটা অনেক বড় হওয়ায় এর পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের বেশ কিছু নেতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় সূত্রটি।

অপর আরেক সূত্র জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ঢাকা নদীবন্দর সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মীরা অর্থনৈতিক সুবিধা, কখনো কখনো সিন্ডিকেটের চাপের কারণেও কুলিদের চাঁদাবাজি ও অনিয়মের সুযোগ করে দেন।

সদরঘাট টার্মিনালে নিউ ভিশন ইকোসিটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০৪ জন কুলি বা ঘাট শ্রমিক কাজ করেন বিআইডব্লিউটিএ-এর জন্য। নিউ ভিশন ইকোসিটি লিমিটেডের পরিচালক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ আওয়ামী যুবলীগের নেতা শিপু আহমেদ।

ঢাকা নদীবন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নিউ ভিশন ইকোসিটি লিমিটেডের অধীনে নেওয়া ঘাট শ্রমিকদের দৈনিক ৩৬৫ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়।

সদরঘাট টার্মিনালে সরাসরি বিআইডব্লিউটিএ-এর অধীনেও আরও ৭০/৮০ জন ঘাট শ্রমিক (পোর্টার নামে পরিচিত) কাজ করছেন।

হয়রানির শিকার ইমরান হোসেন বলেন, কচু, আম, বেগুন, কিছু শাক সবজি ঢাকার ফ্যামিলির সদস্যদের সাথে খাওয়ার জন্য নিয়ে এসেছি। কুলিরা ১৫শ’ টাকা দাবি করে। ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছি। তারপরও তারা বলছে তাদের কথা মতো টাকা না দিলে ব্যাগ নিয়ে যেতে পারবো না, তারা নাকি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করবে।

এর আগেও কুলিদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।

লঞ্চে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের নিয়মিত যাত্রী রায়হান  বলেন, সদরঘাট টার্মিনালে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির এ দৃশ্য নিয়মিত। এক প্রশ্নের জবাবে রায়হানের বন্ধু জুয়েল রানা বলেন, অভিযোগ দিয়ে কি হবে? ঝামেলার ভয়ে অনেকে নীরবে টাকা দিয়ে চলে যান।

তিনি বলেন, কুলিরা বলে বন্দর কর্মকর্তারা তাদেরই লোক। ঘাট কর্তৃপক্ষ নাকি তাদের টাকা তোলার দায়িত্ব দিয়েছে। সেখানে আমরা কার কাছে অভিযোগ করবো?

অভিযোগে নিরুৎসাহী হওয়া বিষয়ে জুয়েল আরও বলেন, যখন চাঁদাবাজি হয় তখন আশেপাশে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসে না, না দেখার ভান করে চলে যায়।

অপর এক যাত্রী শহীদুল ইসলাম বলেন, চাঁদার জন্য কুলিরা আমাদের সঙ্গে মাস্তানের মতো আচারণ করে। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি পয়সায় দৈনিক ভাতা দিয়ে এসব কুলি পুষছে। এরা পোষা মাস্তান! যা এটা দুঃখজনক।

যাত্রী হয়রানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে টার্মিনালের দায়িত্বরত বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে প্রচণ্ড রকম বিব্রতকর অবস্থায় আছি এবং এ বিষয়ে প্রচণ্ড রকমের টেক কেয়ারও করছি।’

ক্রমাগত যাত্রী হয়রানি কমে এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বলবো না, নির্মূল হয়েছে; তবে কমেছে। নির্মূলের চেষ্টা করছি।’

এক্ষেত্রে যাত্রী সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে কায়সারুল ইসলাম বলেন, সিসি ক্যামেরা দিয়ে বন্দরের কার‌্যক্রম মনিটর করা হয়।

সিসি ক্যামেরায় মনিটর করা হলে অভিযোগ ছাড়াও কতৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয় না কেন? প্রশ্নের জবাবে কায়সারুল বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রচুর ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

চাঁদাবাজি-হয়রানির বিরুদ্ধে প্রচুর ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন এটি বন্ধ হচ্ছে না? অপর প্রশ্নের জবাবে কায়সারুল ইসলাম বলেন, ‘কারণটা হচ্ছে, সদরঘাট হচ্ছে একটা অন্যরকম এলাকা…।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিএ-এর আরেক উপ-পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘সিসি ক্যামেরা মাঝে মধ্যে বিকল থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে একটু ঝামেলায় আছি। অনেক সময় তারা কাপড়-চোপড় দিয়ে ঢেকে রাখে বা সিসি ক্যামেরার মুখটা অন্যদিকে ঘুরায় রাখে।’

নিউ ভিশন ইকোসিটি লিমিটেডের পরিচালক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ আওয়ামী যুবলীগ নেতা শিপু আহমেদ  বলেন, ‘সদরঘাটে আগে যে হয়রানি ছিল এখন তার ৯০ শতাংশ কমে গেছে। টুকটাক হতে পারে।… এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো এটা জোর গলায় বলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আপ্রাণ চেষ্টা করি। কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কঠোর ব্যবস্থা নিই।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 voiceofchandpur.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET