বিজ্ঞপ্তি
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ. দেশের জনপ্রিয়  voiceofchandpur.com অনলাইন নিউজ-এ জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিটি থানায়. একজন থানা প্রতিনিধি ও প্রতি জেলায় একজন জেলা প্রতিনিধি  নিয়োগ দেওয়া হবে। 
করোনা দুর্যোগে শিক্ষাব্যবস্থার ছন্দপতন: শিখন ক্ষতি লাঘবে করণীয়

করোনা দুর্যোগে শিক্ষাব্যবস্থার ছন্দপতন: শিখন ক্ষতি লাঘবে করণীয়

বর্তমান বিশ্ব এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার সম্পর্কে আগে থেকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না। আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। হ্যাঁ, আমরা মানবজাতির সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়া করোনাকালের কথা বলছি। করোনা এমন একটি সংকটের তরঙ্গ তৈরি করেছে, যা কেড়ে নিচ্ছে তাজা সব প্রাণ। সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে দরিদ্রতার মহাসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। সামাজিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে মানসিক বৈকল্য। বাড়ছে নৈরাজ্য, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা। নগর পুড়িলে দেবালয় যেমন এড়ায় না ঠিক তেমনি সর্বক্ষেত্রেই আজ করোনার ভয়াল থাবা। শিক্ষার ক্ষেত্রে করোনা কেবল সাময়িক প্রভাবই ফেলেনি, এটি সৃষ্টি করেছে শিখনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি। ইউনেসকোর তথ্যানুযায়ী বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বে এক শ বাহাত্তর কোটি পঞ্চাশ লাখ শিক্ষার্থী শিখনবঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার সব ক্ষেত্রের মোট ৯৮.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখন ক্ষতির সম্মুখীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী শিখন ক্ষতির সম্মুখীন। এই শিখন ক্ষতি প্রকৃতপক্ষে জাতির যেকোনো ক্ষতির থেকে ভয়াবহ। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। আশু ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতি হ্রাসের পদক্ষেপ যদি নেওয়া না হয়, দীর্ঘ মেয়াদে চরম মূল্য দিতে হবে। শিক্ষা-অর্থনীতির মতামত অনুযায়ী, শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ, যার রেট অব রিটার্ন সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি। আমরা চাক্ষুষ লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে গার্মেন্টস, কল-কারখানা খুলেছি, অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু যে খাতটি সবচেয়ে বেশি প্রফিট নিয়ে আসে, সেই খাতের বিষয়ে এতটা গুরুত্ব বা আলোচনা করিনি।

শিক্ষাবিজ্ঞানে বলা হয়, একটি জাতির প্রকৃত ভাগ্য লিখিত হয় এর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলোতে। আর করোনা এই শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাকে তথা বিদ্যালয় শিক্ষায় মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অপূরণীয় শিখন ক্ষতি বা লার্নিং লসের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষের তিন মাস পূর্ণ না হতেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয়নি। যতটুকু তারা শিখেছিল, দীর্ঘ বন্ধে তাও ভুলতে বসেছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় তাদের পড়ালেখার ছন্দঃপতন ঘটেছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত পরিকল্পনার অভাবে এলোমেলো হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা।  তৈরি করছে শিক্ষার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি উদাসীনতা। এর পেছনে কাউকে দোষারোপও করা যৌক্তিক হবে না। কেননা বর্তমানের মতো পরিস্থিতি অতীতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘটেনি। এ জন্য শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক, নীতিনির্ধারকসহ কারোরই এর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।

এইচএসসি ও সমমানের প্রায় বারো লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষার জন্য তারা যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল তাতে ছেদ পড়েছে। পরীক্ষা কবে হবে সেই অনিশ্চয়তা তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক চেষ্টায় সেশনজট কমিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে আবারও বড় রকমের সেশনজটে পড়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি।

করোনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দিত্ব তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা ও বেড়ে উঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার অভাবে, সঙ্গীদলের সঙ্গে মেলামেশার অভাবে তাদের সঠিক সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ঘরে বসে থাকতে থাকতে একদিকে তারা স্থ্থূল হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে একঘেয়েমি ও অবসাদগ্রস্ততা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বলতে হয়, অটিস্টিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কথা। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা বিশেষ স্কুলে যে ছন্দে লেখাপড়া করে একটু একটু করে নিজেদের বিকশিত করছিল, সেই ছন্দ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থীই টিউশনি ও পার্টটাইম জব করে পড়ালেখার খরচ জোগাত কিন্তু করোনার কারণে এসব বাতিল হয়ে গেছে। পরে টিউশনি ও জব খুঁজে নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া তাদের জন্য অনেক কষ্টের হবে।

করোনার আগে এ দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার কারণে ৭০ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে সিপিডি জানিয়েছে। লকডাউন খুলে দেওয়া হলেও অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় যাচ্ছে মন্দা। ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর অনেকেই শিশু শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়েই অর্থ উপার্জনে নামিয়ে দেওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া করোনাকালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাল্যবিবাহসহ অনেক সামাজিক অনাচারের শিকার হচ্ছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা। দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শিশু শিক্ষার্থীরা পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। ভীষণ বেকায়দায় আছেন বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। মাউশি থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে বেতন ও অন্যান্য পাওনা আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না। এই শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নেই কোনো প্রণোদনাও। চক্ষুলজ্জায় ত্রাণের লাইনেও এঁরা দাঁড়াতে না পারায় পার করছেন দুর্বিষহ এক মানবেতর জীবন।

করোনাকালীন পড়াশোনার ক্ষতি কিছুটা কমানোর জন্য বিকল্প শিক্ষণ হিসেবে সরকারি নির্দেশে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভাবে এম উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, একই সঙ্গে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইউজিসির নির্দেশনায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অল্প কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও অল্পবিস্তর অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। ইউজিসির তথ্যমতে, মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। তার মানে ৩০ শতাংশই অংশগ্রহণ করতে পারছে না। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির ছেলে-মেয়েরা সাধারণত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে। তাদের অধিকাংশেরই ভালো স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট অ্যাকসেস থাকার পরও ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য বেশি হওয়ায় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করতে পারছে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থীই দরিদ্র পরিবারের। ভালো স্মার্টফোনের অভাব, ইন্টারনেট প্যাকেজ খরচ, নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সব শিক্ষার্থীকে এসব সুবিধা যদি সরকার থেকে নিশ্চিত করা যায়, তবেই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত বলে মনে করি। আর তা না হলে আর্থিকভাবে সচ্ছলদের তুলনায় অসচ্ছল ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ায় তীব্র বৈষম্যের শিকার হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

করোনাকালীন শিখন ক্ষতি মেনে নিতেই হবে। জীবনের চেয়ে কোনো কিছুই অগ্রাধিকার পেতে পারে না। তবে যতটুকু ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায় সেটাই বিবেচ্য। প্রধানমন্ত্রী আভাস দিয়েছেন সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো অনেকটা সময়। যদি সেপ্টেম্বরে খোলেও, তাহলেও প্রায় ছয় মাসের শিখন ক্ষতির মুখে পড়বে শিক্ষার্থীরা। তবে এই সময়টায় শিক্ষার্থীদের নানা রকম সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য অভিভাবকদের চেষ্টা করা উচিত। পুঁথিগত বিদ্যাই যে সব নয়, এটা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের নানাবিধ বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানমূলক কাজ তাদের করতে দেওয়া যেতে পারে। কাগজ ও অব্যবহার্য বিভিন্ন বস্তু দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি, ছাদ ও বারান্দা বাগান, রান্নাবান্না, ঘরের কাজসহ বিভিন্ন কায়িক শ্রমমূলক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত করা যেতে পারে। কমিকস, থ্রিলার, গোয়েন্দা কাহিনি, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং তথ্য ও জ্ঞানমূলক বইয়ের মাধ্যমে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা হলে দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হবে। পত্রিকা পড়ার সু-অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। সিলেবাসের বিষয়বস্তুগুলোর সঙ্গে মিল আছে এমন গল্পের বই, নাটক, সিনেমা, গান, ডকুমেন্টারি ইত্যাদি বিনোদনমূলক উপায়ের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে অখণ্ড অবসরে শিক্ষার্থীর মধ্যে ভিডিও গেমসসহ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের অতিমাত্রায় আসক্তি যেন না হয় সেদিকে অভিভাবকের খেয়াল রাখা উচিত। এখন শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সময়টাই অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে আছে। তাই এ সময়টায় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সু-অভ্যাস গঠন করার চেষ্টা করতে পারেন।

বিশ্বের কিছু দেশে লকডাউন খোলার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা শুরু করেছে। কিছু দেশ বিদ্যালয় খুলে আবার বন্ধও করে দিয়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বলতে হয়, যখনই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখনই বিদ্যালয়গুলো খোলা উচিত। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই যেখানে সামাজিক দূরত্ব মানতে অনিচ্ছুক, সেখানে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা কাম্য হতে পারে না। আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে দেশ ও সমাজের যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা কমানোর জন্য সরকারকে মার্শাল প্ল্যানের মতো এক প্ল্যান নিতে হবে। একদিকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিক বিকল্প শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিশেষ করে টেলিভিশনের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ ও অনলাইন শিক্ষণের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে করোনাকালীন অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তিন বছর মেয়াদি যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, শিক্ষার ক্ষেত্রেও এমন মেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। অনেকে অটো প্রমোশনের কথা বলছেন। আবার অনেকে সিলেবাস কমিয়ে আনার কথা বলছেন। আসলে এতে শিক্ষার্থীরা হয়তো সার্টিফিকেট লাভ করবে কিন্তু নির্ধারিত শিখন যোগ্যতা অর্জন করবে না। এই ক্ষত তাদের বহন করতে হবে সারা জীবন। সম্পূর্ণ পাঠক্রম সম্পন্ন করেই শ্রেণি উত্তরণ করানো উচিত। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়িয়ে এবং ছুটির সংখ্যা কমিয়ে এবং কিছু অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। এতে কিছু বাড়তি ঝামেলা হবে, কিছু চাপ বাড়বে, তবে ‘না পড়েই পাস’ এই কলঙ্কের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। পিইসি, জেএসসির মতো বাড়তি পরীক্ষাগুলো বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপের বোঝা কমানো যেতে পারে। করোনার কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক অভিভাবক আগামীতে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ দিতে পারবেন না। সে জন্য সরকার থেকে সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। আবার যেসব বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না তাঁদের বিশেষ প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আনা উচিত। করোনায় শিখনের ক্ষেত্রে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা ফিরে পাওয়া যাবে না কিন্তু শিখনের ক্ষতি যেন কমানো যায় এ জন্য অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, সরকারসহ প্রতিটি অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

লেখক: ড. মাহবুব লিটু, সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, বিশেষ শিক্ষা বিভাগ, আইইআর এবং সহকারী প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; এবং আরিফুর রহমান, প্রভাষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 voiceofchandpur.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET