বিজ্ঞপ্তি
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ. দেশের জনপ্রিয়  voiceofchandpur.com অনলাইন নিউজ-এ জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিটি থানায়. একজন থানা প্রতিনিধি ও প্রতি জেলায় একজন জেলা প্রতিনিধি  নিয়োগ দেওয়া হবে। 
সংবাদ শিরোনাম
টিকটক দেখতে না দেয়ায় ফরিদগঞ্জে ভাইয়ের সাথে অভিমান করে বোনের আত্মহত্যার চেষ্টা মেধাবী ছাত্রদের পড়ালেখার পাশাপাশি সামাজিক কাজ করা প্রয়োজন-জনাব মাসুদ মিজি (মামুন)। তিন বছরেও শুরু হয়নি ফরিদগঞ্জ গাজীপুর মাদ্রাসার চারতলা ভবনের  কাজ ফরিদগঞ্জ হাঁসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মচারি নিয়োগ পরীক্ষা স্হগিত অর্থ আত্মসাতের মামলা : মোয়াজ্জেম হোসেনকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আগুন, ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে হাইমচরে কৃষকদের মাঝে জীবাণুসার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ বিপিএল ম্যাচ চলাকালীন মাহমুদউল্লাহর নামাজ আদায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে পুলিশ : প্রধানমন্ত্রী
ফরিদগঞ্জে হাবিব হত্যা মামলায় আটক ৫

ফরিদগঞ্জে হাবিব হত্যা মামলায় আটক ৫

মামুন হোসাইন:

গলায় লাইলনের রশি পেঁচিয়ে চেপে ধরে ধরে ঘাতক সাইফুল , অন্য দুই ঘাতক শ্যামল ও সিফাত ধরে দুই হাত এবং প্রধান ঘাতক রুবেল দুই পা ধরে রাখে হাবিব মৃধা। এভাবে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর পরকিয়া প্রেমের শত্রু হাবিব মৃধার নিথর দেহকে ফেলে দেয়া পাশ্ববর্তী গুপ্তের বিলে। পরে খুনের শিকার হাবিরের ব্যবহৃত দুইটি মুঠো ফোন ও ফাঁস লাগানো রশিটি এনে পরকিয়া প্রেমিকা শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয় প্রধান ঘাতক রুবেল।

অত:পর মুঠো ফোনে শিউলীর কাছে হাবিবকে শেষ করে ফেলার তথ্য দিয়ে পালিয়ে যায় ঢাকা প্রধান ঘাতক । বুধবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এক প্রেসব্রিফিংয়ে হাবিব মৃধা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন পুর্বক এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ পিপিএম জানান, লাশ উদ্ধারের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা খুনের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধান ঘাতক রুবেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত হাবিবের মুঠো ফোন উদ্ধারসহ অনেক আলামত জব্ধ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের দুইদিনপর মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) নিহতের ভাই আকরাম হোসেন বাবুল বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় এই পর্যন্ত মোট ৫জনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন, মো: রুবেল (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩৩), সিফাত উল্যা রাসেল(২৭) , পারভেজ হোসেন শ্যামল (২৬) এবং শিউলী আক্তার (২০)। পুলিশ সূত্র জানায়, কুয়েত প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রী ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নিদুর্গাপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে শিউলী আক্তরের সাথে একই গ্রামের মৃত মনির মৃধার ছেলে হাবিব মৃধা এবং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মো: রুবেল, হেজবুত উল্ল্যার ছেলে সিফাত উল্ল্যা রাসেলসহ বেশ কয়েকজনের সাথে পরকিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই পরকিয়ার সম্পর্কের কারণে হাবিব মৃধা, রুবেল, রাসেলের সাথে দ্বন্ধ বাঁধে হাবিব মৃধা, রুবেল ও রাসেলকে শিউলীর জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৪ আগস্ট বুধবার রাতে রুবেল হাবিবকে মুঠো ফোনে পাশের গুপ্তের বিলের ব্রীজের পাশে ডেকে নেয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেলের সহযোগি সাইফুল ইসলাম লাইলনের রশি দিয়ে হাবিবের গলা পেঁচিয়ে ধরে।

এসময় অপর সহযোগি রাসেল ও শ্যামল তার হাত চেপে ধরে এবং রুবেল পা চেপে ধরে। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাকে গুপ্তের বিলে ফেলে দেয়। পরে হাবিবের ব্যবহৃত মুঠো ফোন ও লাইলনের রশিটি শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খালে ফেলে দিয়ে খুনের ঘটনাটি শিঊলী আক্তারকে মুঠো ফোনে নিশ্চিত করে রুবেল । পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সোমবার (৯ আগস্ট) প্রথমে শিউলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার তথ্য মতে রুবেলকে ঢাকার উত্তরা থেকে ওই রাতে আটক করে মঙ্গলবার সকালে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে মঙ্গলবার দিনভর অভিযান করে অপর তিন সহযোগি সিফাত, শ্যামল ও রাসেলকে তাদের এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে ডুবুরি দিয়ে শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খাল থেকে হাবিরের একটি মুঠো ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রেসব্রিফিংয়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শহীদ হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুবেল ফরাজী।

উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় (৮ আগস্ট) ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পুর্ব ইউনিয়নের গুপ্তের বিল থেকে হাবিব মৃধার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত হাবিরের বড় বোন রোকেয়া বেগম জানায়, গত ৪ আগস্ট বুধবার দুপুরে হাবিব মৃধা মুঠো ফোনে কল পেয়ে চাঁদপুরস্থ তার আরেক বোন মরিয়মের বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে বাড়ি থেকে এক দেড় কিলোমিটার দুরের গুপ্তের বিলে লাশ পাওয়ার সংবাদ শুনে এসে তিনি ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে দুইদিন পর নিহতের ভাই আকরাম হোসেন বাবুল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 voiceofchandpur.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET