বিজ্ঞপ্তি
জরুরী ভিত্তিতে সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ. দেশের জনপ্রিয়  voiceofchandpur.com অনলাইন নিউজ-এ জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিটি থানায়. একজন থানা প্রতিনিধি ও প্রতি জেলায় একজন জেলা প্রতিনিধি  নিয়োগ দেওয়া হবে। 
আলেশা মার্টের প্রতারণা : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

আলেশা মার্টের প্রতারণা : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

আলেশা মার্টের প্রতারণার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশের শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলেন বলা হয়, গ্রাহকদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। এই টাকা উদ্ধারে সরকারের সুদৃষ্টি জরুরি।

গ্রেপ্তার করে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই গ্রাহকদের মূল টাকা উদ্ধারে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলেশা মার্ট কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন, আলেশা মার্ট বিক্ষোভ ও আন্দোলনের গ্রুপের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে সুনিদির্ষ্টি সাতটি দাবি উপস্থাপন করা হয়।

যার মধ্যে রয়েছে অনতিবিলম্বে গ্রাহকদের মূল টাকা ফেরত দেওয়া। আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদেশ গমন নিষিদ্ধ করা। দাবি আদায় না হলে চেয়ারম্যান যদি বিদেশ পালিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সব দায়-দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলকে নিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব মেয়াদোত্তীর্ণ চেক রিপ্লেস করা, বন্ধ কল সেন্টার চালু করে গ্রাহকদের সেবার মান নিশ্চিত করা। গ্রাহকদের বর্তমান করুণ অবস্থা বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহল এক হয়ে একটা কমিটি করতে হবে। যে কমিটি চাপ প্রয়োগ করে আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদারকে বাধ্য করবেন গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করতে। আর যদি চাপ প্রয়োগে কাজ না হয়, সে ক্ষেত্রে গঠিত কমিটি চেয়ারম্যানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে গ্রাহকদের দেনা পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মঞ্জুর আলম শিকদার বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে বলেছেন, তার দেনার চেয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ আছে। তার সম্পদ থাকলে গ্রাহকের দেনা পরিশোধে এত গড়িমসি কেন? আমরা কারো ভিক্ষা, করুণা বা দান চাই না। আমরা আমাদের ন্যায্য ও কষ্টের টাকা ফেরত চাই। আমরা আর কারো মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী নই।

আশরাফুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানান, অনতিবিলম্বে গ্রাহকের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যথায় আলেশা মার্ট কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন পাওনা টাকা আদায়ে পরবর্তী সময়ে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচির ঘোষণা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আলেশা মার্ট কম্পানির চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদার এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ‘আছি তো আমরা আছি তো’- এই স্লোগান নিয়ে বাজারে কাজ শুরু করে। কিছুদিন ভালো সার্ভিস দেওয়ার পর, আলেশা মার্ট গত বছরের মে-জুন মাসে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করে, যেখানে তারা বাইকের ওপর ৩৫% ছাড় দিয়ে ৪৫ দিনের মধ্যে বাইক প্রদান করবে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই ক্যাম্পেইনে আমাদের জানা মতে, এক মাসের মধ্যে ৪৬ হাজার বাইকের অর্ডার পড়ে।

এরপর আগস্টে ব্যাংক ডিপোজিট নামে বাইকের ওপর ৩৩% ছাড়ের আরেকটি ক্যাম্পেইন চালু করে। দুইটা ক্যাম্পেইন মিলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অর্ডার করেন আলেশা মার্টের প্রায় সাত হাজার গ্রাহক। পরবর্তী সময়ে তারা গ্রাহকদের পণ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহকদের চাপের মুখে পণ্য/রিফান্ড কোনোটাই না দিয়ে গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন তারিখের চেক ধরিয়ে দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী অপর্যাপ্ত টাকা থাকায় চেকগুলো ব্যাংক থেকে ফেরত দেওয়া হয়। এতে করে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়েন। চেয়ারম্যান ফেসবুক লাইভে এসে জানান, তারা নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী টাকা দিতে পারবেন না। তিনি সবাইকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেন এবং চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ক্রমান্বয়ে টাকা দেওয়া শুরু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেটি তিনি করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তিনি বারবার ব্যর্থ হয়ে মঞ্জুর আলম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মিটিং করে সবাইকে আশ্বস্ত করেন, তিনি ব্যাংকঋণের চেষ্টা করছেন। সেটা জুন মাসের ভোতর হয়ে গেলে তিনি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে সবাইকে রিফান্ড দেওয়া শুরু করবেন। এই কথার ভিত্তিতে তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সফিক জামান গ্রাহকদের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করেন। কিন্তু জুলাই শেষের দিকে হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে গেটওয়েতে থাকা ৪২ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ২৫৮ কোটি টাকার গ্রাহকদের দেওয়া অধিকাংশ চেকের মেয়াদ শেষ। কারো কারো প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান চেক রিপ্লেস এবং মূল টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি। এমনকি তাদের সব অফিস, কল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 voiceofchandpur.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET