চাঁদপুরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত তিন দিনে জেলা সদর হাসপাতালে একশোর বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই নতুন রোগী যোগ হচ্ছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন দিনে শিশু ওয়ার্ডে ১১৭ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল। এর বাইরে কেবিন ও পেইং বেডেও আরও ১০–১৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। রোগী বাড়ায় গাদাগাদি পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশুরা ও তাদের স্বজনরা। শীতবস্ত্রের অভাব ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা দেওয়াও চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুরা। তীব্র ঠান্ডা, কুয়াশা ও সঠিক সুরক্ষার অভাবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসমা বলেন, “শীতের তীব্রতা বাড়ায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। ছোট শিশুকে সবসময় গরম কাপড়ে রাখতে হবে, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলতে হবে এবং জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে আনতে হবে।”
তিনি শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষায় থাকার পরামর্শ দেন।
শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে শিশু রোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতনতা ও সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :