নির্বাচনী আচরণবিধির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কাজে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আবেদন করেছে চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের মাধ্যমে এ আবেদন জমা দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির ও জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট কাদের খানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত ও বিএনপির চারজন শিক্ষককে জরিমানা করেছেন উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। অথচ আইনটির সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়েই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল।
আবেদনপত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ২০(খ) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়—সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা শিক্ষকদের সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত করা নিষিদ্ধ। তবে ওই বিধিমালায় সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “শাহরাস্তিতে যেসব শিক্ষকদের জরিমানা করা হয়েছে, বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। আচরণবিধির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আচরণবিধির অপব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক :