প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৪:৩৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে টেন্ডার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভা এলাকায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারার সিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজীর পক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের বাধা দেন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০) ও সফিউল্লাহ (৩৫)সহ আরও দুজন।
দুই পক্ষের বক্তব্য

যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী বলেন,
“সিডিউল জমা দেওয়ার সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েকজন সিডিউল নিয়ে এলে আমরা বাধা দিই। এ সময় তারা আমাদের কর্মী সফিউল্লাহকে মারধর করে।”

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান দাবি করেন, প্রশাসনের কারসাজির মাধ্যমে একপক্ষের সিডিউল গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় রাখার কথা থাকলেও কেবল পৌরসভায় রাখা হয়।

তারা আরও বলেন, সিডিউল জমা দিতে গেলে আবু সাঈদ বেপারী ও উজ্জ্বল ফরাজীর সমর্থকেরা বাধা দেন এবং বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানের মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজনকে আহত করেন। এ ঘটনায় তারা ছেঙ্গারচর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।

প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য

মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল বলেন,
“সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর

প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,
“একপক্ষ অন্যপক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে তারা আসে। এখন সিডিউল জমা দিতে না পারলে তারা ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে পারে।”

তিনি আরও জানান, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি সিডিউল জমা পড়েছে।

প্রিন্ট করুন