প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৫:০৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিনা হাদিয়ায় ৬ দশক ধরে খতমে তারাবি: চাঁদপুরের মমিনপুরে ১৬ মসজিদের অনন্য ঐতিহ্য

অনলাইন ডেস্ক :

রমজানের পবিত্র রাতে কোরআনের সুরেলা তিলাওয়াতে মুখরিত থাকে মসজিদ। তবে চাঁদপুর সদরের বাগাদি ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য—এখানে গ্রামের ১৬টি মসজিদে একযোগে খতমে তারাবি পড়ান হাফেজরা বিনা হাদিয়ায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী মমিনপুর মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রথা চালু করেন মরহুম হাফেজ মাওলানা মুহসিন (রহ.)। প্রতিবছর এখান থেকে হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরাই গ্রামের সব ক’টি মসজিদে খতমে তারাবির দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি মসজিদে দুই থেকে চারজন করে হাফেজ নামাজ পড়ান। চলতি বছর মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন হাফেজ মো. মাহমুদ ও হাফেজ ওবায়দা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ডাকাতিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠা মমিনপুর মাদরাসা এলাকাজুড়ে প্রশান্ত পরিবেশ ছড়িয়ে দেয়। নদীর পশ্চিম পাড়ের দোতলা মসজিদে একসঙ্গে পাঁচ থেকে ছয় শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। খোলামেলা পরিবেশে তারাবির সময় সৃষ্টি হয় আলাদা এক আত্মিক আবহ।

“হাদিয়া নয়, ইবাদতের তৃপ্তিই আমাদের প্রাপ্তি”

মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, শহরের অনেক মসজিদে খতমে তারাবির জন্য হাদিয়া দেওয়া হয়। কিন্তু মমিনপুর মাদরাসায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাদিয়া নেওয়া-দেওয়ার রেওয়াজ নেই। প্রায় ৭২ বছর ধরে এই ধারা একবিন্দুও বিচ্যুত হয়নি।

হাফেজ মাহমুদ বলেন, “দুই বছর ধরে এখানে তারাবি পড়াচ্ছি। কোনো পারিশ্রমিক নিইনি। বিনিময়হীন ইবাদতে আলাদা তৃপ্তি আছে।” একই অনুভূতি জানিয়ে হাফেজ ওবায়দা বলেন, “তিন বছর ধরে খতমে তারাবি পড়াচ্ছি। কোনো হাদিয়া না নিয়ে ইবাদত করতে পারা সৌভাগ্যের।”

দেশজুড়ে সুনাম ছড়িয়েছে এই মাদরাসার

১৯৮৮ সালে এখান থেকে হিফজ সম্পন্ন করা সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের হাফেজ আব্দুল বারেক বলেন, “মমিনপুর মাদরাসার ঐতিহ্য দেশজুড়ে পরিচিত। এখানে হাফেজদের তারাবি পড়াতে আলাদা কোনো সুপারিশ লাগে না—নৈতিকতা ও মানবিক শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি অনন্য।”

মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ রাশেদ জানান, দীর্ঘদিন মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়িয়েছেন তাঁর চাচা হাফেজ ফজলুর রহমান। তাঁর ইন্তেকালের পর শিক্ষার্থীরাই সেই ঐতিহ্য বহন করছেন। তারাবি শেষে মুসল্লিদের মিষ্টিমুখ করানোর মধ্য দিয়েই শেষ হয় দায়িত্ব—তবে থেকে যায় ভালোবাসা, আস্থা আর আত্মিক বন্ধন।

প্রিন্ট করুন