কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নয়, উৎসব-আনন্দ আর মানুষে মানুষে মিলনের বার্তা নিয়েই আসে বাংলা নববর্ষ। সেই আবহই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি-এর আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসীরউদ্দিন মিলনায়তন পরিণত হয় এক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চে। বয়স, ধর্ম ও ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে মিলিত হন কবি, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম এত বর্ণাঢ্য পরিসরে বর্ষবরণ আয়োজন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ভিন্নতা, আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের উষ্ণতা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আড্ডা, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনায়। প্রান্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি কাজী রাসেলের পরিবেশনায় লোকজ, বাউল, কাওয়ালি ও আধুনিক গানের মিশেলে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সংগীত পরিবেশন করেন তানজিদ কোতোয়ালও।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশ এবং সঞ্চালনা করেন পরিচালক ও বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আশিক বিন রহিম।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সাইদুজ্জামান। তিনি নববর্ষের ঐতিহ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, পরিচালক (সাহিত্য) মাইনুল ইসলাম মানিক, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, মুখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, কবির হোসেন মিজি, উজ্জ্বল হোসাইন ও শেখ মহিউদ্দিন রাসেলসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একসঙ্গে পান্তা ভোজন। ধর্ম-বর্ণ ও বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একই সারিতে বসে অংশ নেন এ আয়োজনে, যা ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
আপ্যায়ন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে ছিলেন নুরুনাহার মুন্নি, মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, মুহাম্মদ হানিফ, এএম সাদ্দাম হোসেন, আরিফুল ইসলাম শান্ত ও ইমরান শাকির ইমরু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, আউয়াল হোসাইন লিটন, কাউসার আলম রুবি, খাইরুল আলম, জান্নাত আক্তার, শেখ আরিফ মহিউদ্দীন, তানিয়া ইসলাম, হযরত আলী রনি প্রমুখ।
উৎসবমুখর এ আয়োজন প্রমাণ করে, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি দিন নয়—এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও মিলনের প্রতীক।

নিজস্ব প্রতিবেদক