প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ । ১১:১৬ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মিথ্যা চেক জালিয়াতির মামলায় স্ত্রী কারাগারে, স্বামীসহ সব আসামি খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে শারমিন আক্তার রুমা নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার প্রধান আসামি স্বামী মো. জসীম উদ্দীন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (৬ মে) বরগুনার যুগ্ম দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক কাজী আশরাফুজ্জামান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বেতাগী উপজেলার ছোপখালী ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার রুমা ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা কাজী অফিসে মো. জসীম উদ্দীন হাওলাদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ব্যবসায়িক কাজে বিদেশ যাওয়ার সময় জসীম নিরাপত্তার স্বার্থে স্ত্রীর কাছে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক ও স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা রেখে যান।

অভিযোগ রয়েছে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে ওই চেক ব্যবহার করে শারমিন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন।

মামলার শুনানিকালে আদালত দেখতে পান, মামলার আরজিতে উল্লেখ করা চেক নম্বরের সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া চেকের নম্বরের মিল নেই। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়াই মামলার নথিতে কাটাকাটি ও সংশোধনের প্রমাণও পাওয়া যায়।

শুনানির একপর্যায়ে শারমিন আক্তার আদালতে দাঁড়িয়ে জসীম উদ্দীনের সঙ্গে তাঁর বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করেন। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম ও তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্রকেও ‘জাল’ বলে দাবি করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য নথি উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, “কাবিননামা অনুযায়ী তারা বৈধ স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। পরে তালাকও হয়েছে। অথচ আদালতে এসে বাদী বিয়ের বিষয়টিই অস্বীকার করেন, যা আদালতকে বিভ্রান্ত করার শামিল।”

আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট তপু রায়হান বলেন, “শুনানিতে বাদীর বক্তব্য ও নথিপত্রে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এমনকি তাঁর নিজ আইনজীবীও আদালতে স্বীকার করেন যে বাদীর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।”

ভুক্তভোগী জসীম উদ্দীন দাবি করেন, এটি ছিল শারমিনের চতুর্থ বিয়ে। বিদেশে থাকার সময় শারমিন তাঁকে তালাক দিয়ে আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার শুরু করেন এবং তাঁর দেওয়া নিরাপত্তার চেক ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মামলাটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। পরে বাদী শারমিন আক্তার রুমাকে আদালত কক্ষ থেকেই গারদে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রিন্ট করুন