চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ৪২ হাজার ৪৫০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ব্যাসদী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ কুলসুম মনি।
সরকারের উদ্যোগে উপজেলার ১টি স্থায়ী ও ৩৬০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোবারক হোসেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া এবং হেলথ ইন্সপেক্টর ইনচার্জ সুভাষ চন্দ্র সরকার।
পরে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম দীন ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিশুর সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডা. নুরে আলম দীন জানান, আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে মান যাচাইয়ের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেশে আনা হয়েছে। প্রথম দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তী তিন দিন পর্যায়ক্রমে তাকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে লক্ষ্যভুক্ত সব শিশু কর্মসূচির আওতায় আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধই করে না, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ কুলসুম মনি বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১টি স্থায়ী ও ৩৬০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে মোট ৪২ হাজার ৪৫০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ২৪৫ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ হাজার ২০৫ শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক