প্রকাশের সময়: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ । ২:৫২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতির দাবি ২৫ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে দোকানগুলোর মালামালসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

সোমবার দিবাগত রাত ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর হোসেনের সিএনজি ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের দোকান, দেলোয়ার হোসেন ও রহমানের দুটি চায়ের দোকান এবং সাদ্দাম হোসেনের লেপ-তোষকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেনের দোকানেই প্রায় ১৫ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ ও মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া লেপ-তোষকের দোকান এবং দুটি চায়ের দোকানের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানান।

শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নাসিম রেজা নীলু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেন।

ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আমরা অনুধাবন করছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা পাপ্পু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জালাল খোকন, ইউপি বিএনপির সভাপতি আলী আকবর বেপারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, বাজার কমিটির সভাপতি আলম মোল্লাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।

প্রিন্ট করুন