প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ । ১:২৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিত্যক্ত শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা

অনলাইন ডেস্ক :

চাঁদপুর সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসটি এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিষ্ণুদী সড়কের পাশে অবস্থিত দীর্ঘদিনের এই ছাত্রাবাসকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৭৭ সালে শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস চালু করা হয়। দীর্ঘদিন এটি শিক্ষার্থীদের আবাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ভবনটি অযত্ন ও নজরদারির বাইরে থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও অসামাজিক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভবনটিতে মাদক সেবন, বেচাকেনা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।

শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস মসজিদের মুসল্লি আব্দুল মান্নান বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অচেনা লোকজনের যাতায়াত দেখা যায়। অনেক সময় মাদকাসক্তদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা এটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে।

কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট রয়েছে, অন্যদিকে একটি ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুরনো ছাত্রাবাসের জায়গায় নতুন ও আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা পাবে, পাশাপাশি মাদকসেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বন্ধ হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত ভবন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি নিয়মিত পুলিশি টহল, অবৈধ প্রবেশ বন্ধ, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মাননান বলেন, কলেজের দুটি ছাত্রাবাসের মধ্যে একটি সচল থাকলেও শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মতে, ভবনটির নিচতলার অংশ তখনও ব্যবহারযোগ্য ছিল। সেটি আংশিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর পুরো এলাকাটি নির্জন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বহিরাগতরা সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া টোকাই ও মাদকসেবীরা ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে।

অধ্যক্ষ জানান, রাতের বেলায় এলাকাটি অন্ধকার ও নিরিবিলি থাকায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে পাহারাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে।

প্রিন্ট করুন