চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাজার এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। মাঝখানের একটি বড় অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। ভাঙা অংশ দিয়ে নিচের নদীর তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও একটি কাঠের টুকরোর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পথচারীরা কোনোভাবে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, জরুরি প্রয়োজনে পারাপারের সুবিধার্থে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা অংশের ওপর একটি কাঠের টুকরো বসিয়েছেন। তবে সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় কাঠের ওপর থেকে পিছলে নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছে। অভিভাবকদের অগোচরেও অনেক শিশু দুষ্টুমি করে ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করে। এতে যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী আরও জানান, সন্ধ্যার পর ব্রিজটি দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজন থাকলেও ব্রিজ থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই রাতে এ পথে যাতায়াত করেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল দশা হলেও এখনো কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝখানের অংশ ভেঙে যাওয়ায় অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনও চলাচল করতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটিকে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক