প্রকাশের সময়: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৩৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে ৮ হাজার একরজুড়ে এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ: আশিক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদপুরে বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, কৃষির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৭ থেকে ৮ হাজার একর জমির ওপর বড় ধরনের এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

একই সঙ্গে সরকারি খাস জমিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য চাঁদপুরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানও সরকার খুঁজে দেখছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাহেলা ওসমান সিকদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত চক্ষু শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিডা চেয়ারম্যান।

৮ হাজার একরজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “চাঁদপুরে একটি বড় এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার চেষ্টা চলছে। এ প্রকল্পে শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, সৌর প্যানেলের নিচের জমিতে কৃষিকাজও করা যাবে। অর্থাৎ একই জমি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য চাঁদপুরে কয়েকটি বড় জায়গা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত প্রকল্পটি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার একর বা তারও বেশি জায়গাজুড়ে হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পের সুফল শুধু চাঁদপুরবাসীই পাবেন না, সমগ্র দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। কারণ উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।”

খাস জমিতে ইপিজেডের সম্ভাব্য স্থান খোঁজা হচ্ছে

চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের বিষয়ে আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “মাস দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে এসে মঞ্চে ইপিজেড করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের কী পরিমাণ খাস জমি রয়েছে এবং সেসব জমিতে ইপিজেড করা সম্ভব কি না, তা খুঁজে দেখছে।”

তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমিতেই ইপিজেড করা যায় কি না, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ইপিজেড স্থাপনের জন্য শুধু জমি থাকলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা আছে কি না, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন এবং সাইটটি উন্নয়ন করতে কত ব্যয় হবে—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য সহজে সড়ক বা নৌপথে চট্টগ্রামে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “যে কোনো কিছু বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত আপনাদের জন্য এটা করা যায়, তত দ্রুত করার।”
চাঁদপুরের এসব উন্নয়ন উদ্যোগের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতি তিন মাস পরপর এসব কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চক্ষু শিবিরে অতিথিরা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক ড. তারিফুজ্জামান সোহেল শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, এডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) মো. মনিরুজ্জামান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য খোকা শিকদার।

প্রিন্ট করুন