চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পালবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জাহিদ ব্রয়লার হাউজের মালিক মো. বিল্লাল গাজীর বিরুদ্ধে ওজনে কম মুরগি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে এ তদন্ত পরিচালিত হয়।
অভিযোগকারী মো. আবুল হাসেম গাজীর দাবি, গত ৬ আগস্ট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি পালবাজারের জাহিদ ব্রয়লার হাউজে ১০০টি মুরগির অর্ডার দেন। প্রতিটি মুরগির ওজন ৮৫০ থেকে ৯০০ গ্রামের দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে ৩৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের মুরগি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল হাসেম গাজীর অভিযোগ, মুরগির ওজন কম হওয়ায় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবারের সংকট তৈরি হয় এবং এতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল গাজী ও অভিযোগকারীকে ডেকে তাঁদের বক্তব্য শোনে। পরে পালবাজারে গিয়ে জাহিদ ব্রয়লার হাউজে সরেজমিনে মুরগির ওজন পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তের সময় একটি ব্রয়লার মুরগির ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মধ্যে পাওয়া যায়। মুরগিটি পরিষ্কার করার পর ওজন কমে প্রায় ৬৩০ গ্রাম হয় বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। পরে বাজারে গিয়ে মুরগির ওজন পরীক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগকারী আবুল হাসেম গাজী আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের বিয়ের জন্য গরু ও খাসি কেনার ক্ষেত্রেও তিনি প্রতারণা ও মাংস কম পাওয়ার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, ফরিদগঞ্জের রূপসার কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী ও কসাই এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিরা গরু ও খাসি জবাইয়ের পর মাংসের একটি অংশ নিয়ে যান। এ ঘটনায়ও তিনি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণসহ আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা ও ব্যবসায়ী দাবি করেন, পালবাজারে মুরগি ওজন কম দেওয়ার অভিযোগে এর আগেও প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযানে চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, পালবাজারের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ থাকলে তা নিয়মিত তদারকি ও তদন্তের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

অনলাইন ডেস্ক: