মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তির সামাজিক সংগঠন দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বসতঘর পুনর্নির্মাণ করে এক অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৫টায় দাদিয়াপাড়া এলাকায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত ঘরটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তির দাদিয়াপাড়া এলাকার গাজীবাড়ির মরহুম সিদ্দিক মিয়ার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন।
পরিবারের একমাত্র বসতঘরটিও দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির সময় ঘরের ছাদ ও বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ত। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরে মা-মেয়েকে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে হতো।
পরিবারটির এমন দুরবস্থার বিষয়টি দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পুরোনো ঘরটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। নতুন ঘর পেয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে অসহায় পরিবারটি।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুল মমিন, আবদুর রহিম, মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন, আলী আক্কাছ, আনোয়ার হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, হুমায়ুন আহমেদ ও আবু ইউসুফ সুমনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সুমন বলেন, “সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিবারটির দুরবস্থা দেখে আমরা উদ্যোগী হই। এলাকাবাসী ও প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক সহযোগিতায় ঘরটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সংস্থার ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার রুবেল বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করছিল। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানুষের প্রয়োজনে এবং দুর্যোগের সময়ে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করবে।”
এ উদ্যোগে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে সহযোগিতা করা সব ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদক