প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৪৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষা ও জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।

এবারের দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ আন্তঃসরকারি সম্মেলনে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে ঐতিহাসিক ‘শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কিত সুপারিশ’ গৃহীত হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই সুপারিশের ৬০ বছর পূর্তি হচ্ছে।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকদেরও এ কাঠামোর আওতায় আনা হয়। আর বিশ্ব শিক্ষক দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের সূচনা হয় ১৯৯৪ সালে।

আইএলও, ইউনেস্কো ও এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অংশীদারত্বে এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’।

গত ছয় দশকে বিশ্বব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে শিক্ষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং অভিবাসনের মতো নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ উপলক্ষে প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে বৈশ্বিক পর্যায়ে নানা আয়োজন থাকছে। সেখানে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতির পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইউনেস্কো-হামদান পুরস্কার’-এর নবম সংস্করণও প্রদান করা হবে।

শিক্ষকেরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না; তারা নতুন প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই শুধু শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নয়, বরং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার এই কারিগরদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হতে পারে দিবসটির অন্যতম অঙ্গীকার।

প্রিন্ট করুন