হাইমচরে ৪ হাজার জেলে পরিবার পেল বিশেষ খাদ্য সহায়তা

হাইমচরে ৪ হাজার জেলে পরিবার পেল বিশেষ খাদ্য সহায়তা

চাঁদপুরের হাইমচরে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাদ্য সহায়তা বিতরণের উদ্বোধন করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত বিশেষ খাদ্য প্যাকেজের আওতায় প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি লবণ ও ৪ কেজি চিনি প্রদান করা হচ্ছে।

দীর্ঘ দুই মাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়া জেলেরা এই সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
উপকারভোগী জেলে মিজান ও রাসেল জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে এনজিওর কিস্তি ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কোরবানির ঈদের আগে সরকারি এই খাদ্য সহায়তা তাদের বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে হাইমচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত জেলেরা সহায়তা পান এবং অ-জেলেরা তালিকাভুক্ত হতে না পারেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, “সরকার প্রকৃত জেলেদের কল্যাণে কাজ করছে। জেলেরা যেন অভাবের তাড়নায় নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না যান, সেজন্যই এই পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক জানান, উপজেলার মোট ৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রশাসন কাজ করছে।

মাছ ধরা নিষিদ্ধের এই সময়ে সরকারি মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও সচেতন মহল।

জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

হাইমচরে ৪ হাজার জেলে পরিবার পেল বিশেষ খাদ্য সহায়তা

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগ থেকে ১ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৪৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা স্বর্ণের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সকাল ১১টা ১২ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আসা যাত্রী মো. শরিফ (পাসপোর্ট নম্বর: A01009640) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

পরে ওই যাত্রী স্বর্ণালংকারের ঘোষণা না দিয়েই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেন। এ সময় কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেন কর্মকর্তারা। পরে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলরুমে তাঁর হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে ৪৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা চুড়িগুলোর মোট ওজন ১ কেজি ৪৮০ গ্রাম। শুল্ক-করসহ এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা।

স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কচুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ যুবক আটক

হাইমচরে ৪ হাজার জেলে পরিবার পেল বিশেষ খাদ্য সহায়তা

চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জুয়েল মিয়াজী (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার টাকা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দোয়াটি এলাকার একটি সেতুর ওপর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন জুয়েল মিয়াজীকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাঁর কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়াজী কচুয়া উপজেলার পালাখাল ইউনিয়নের পালাখাল গ্রামের মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা আবুল খায়ের এবং মা জাহানারা বেগম।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় কচুয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি ২৪ অক্টোবর নথিভুক্ত করা হয়।

কচুয়া থানা-পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়াজীকে রোববার (২৫ অক্টোবর) যথাযথ পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন, ক্ষতি দুই লাখ টাকা

হাইমচরে ৪ হাজার জেলে পরিবার পেল বিশেষ খাদ্য সহায়তা

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখার আবাসিক কক্ষে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্রের ক্ষতি হয়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের বাগাদী শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক মাহমুদা আক্তার।

মাহমুদা আক্তার জানান, ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আবাসিক কক্ষগুলোর জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে কাচের বোতলজাতীয় কিছু নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কক্ষের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ব্যাংকের অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরী নিত্য হাওলাদার জানান, গভীর রাতে জানালা দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবির, চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস নূর এবং উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান ও নাদির শাহসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।