২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চবি ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই শিফটে প্রায় আড়াই হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বই, কলম এবং ওয়ালম্যাটসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি। প্রধান আলোচক ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান এবং চাকসুর সাবেক ভিপি জসিম উদ্দিন সরকার।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে সততা, নৈতিকতা ও আদর্শকে ধারণ করতে হবে। প্রথম বর্ষ থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার, ভালো একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং গবেষণায় যুক্ত হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন এবং শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
চাকসুর সাবেক ভিপি জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শুধু ভালো ফল অর্জন নয়; বরং নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সময়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সমাজকল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান আত্মপ্রেরণা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক দক্ষতা অর্জনই বর্তমান সময়ের চাহিদা।
সভাপতির বক্তব্যে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, প্রথম বর্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত কারিকুলামে নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে প্রশাসনের প্রতি চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।




















