১৬১১১ নম্বরে ফোন, অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল কোস্ট গার্ড

১৬১১১ নম্বরে ফোন, অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল কোস্ট গার্ড

কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন পেয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চে অসুস্থ এক যাত্রীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ওই যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ৩ নভেম্বর চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে বরিশালগামী ‘এমভি এম খান-৭’ লঞ্চে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন ওই ব্যক্তি। রাত ২টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুরের লালপুর সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

এ সময় লঞ্চের সুপারভাইজার কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর থেকে একটি মেডিকেল টিম দ্রুত লঞ্চে পৌঁছে অসুস্থ যাত্রীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই যাত্রীকে কোস্ট গার্ডের বোটযোগে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে শ্যামলী কিডনি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও বলেন, জনসেবায় কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরে ছোট ভাইয়ের মারধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বড় ভাইয়ের মৃত্যু

১৬১১১ নম্বরে ফোন, অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল কোস্ট গার্ড

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রীর মারধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের নিজগাছতলা গ্রামের ইচুলী সড়কের উত্তর পাশে পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহজাহান পাটোয়ারীর (৬০) বাড়িটি ওই এলাকায়।

তিনি মৃত বজলুল গণি পাটোয়ারীর ছেলে এবং সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে ছোট ভাই শাহ আলম পাটোয়ারীর (৫০) সঙ্গে শাহজাহানের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী প্রায়ই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বড় ভাইকে মারধর করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায়ও শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী মিলে শাহজাহানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ির পাশের বাঁশের কঞ্চির ঝোপে ফেলে রাখা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিব ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহজাহান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও সরকারি ভাতাভোগী ছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে তাঁদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল। মরদেহ থানায় রয়েছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬১১১ নম্বরে ফোন, অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল কোস্ট গার্ড

চাঁদপুরে আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। এ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, বিকেল ৩টায় ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় উত্তোলন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পৃথক অনুষ্ঠান এবং সড়কদ্বীপ ও বিভিন্ন সড়ক পতাকা দিয়ে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনায় সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর এবং গণপূর্ত বিভাগের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো।

এ ছাড়া সভায় চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, সংস্কৃতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা।

সভা শেষে চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটোকে বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, আলোচনা সভা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, সড়কদ্বীপ ও সড়কে পতাকা দিয়ে সাজানো, দেশাত্মবোধক গানের আসর, সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ফুটবল ম্যাচ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিশু পার্কগুলো বিনা টিকিটে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ফরিদগঞ্জে রাতের আঁধারে প্রতিবন্ধীর দোকান ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা!

১৬১১১ নম্বরে ফোন, অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল কোস্ট গার্ড

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রাতের আঁধারে আল আমিন নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর নির্মানাধীন দোকান ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ১ নভেম্বর রবিবার রাতে উপজেলা চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের একলাশপুর তুলাতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী আল আমিনের ডান পা নেই। তার বাবা রুহুল আমিন গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ নামে রেকর্ডীয় বিএস ৬২৮ খতিয়ান থেকে ৪৮৪০ দাগে হিস্যানুসারে প্রাপ্ত ২ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। আল আমিন তা নিজ নামে নামজারী করে নেন। স্বজন এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতায় সেখানে তিনি দোকান নির্মাণ শুরু করেন। রবিবার রাতে কে/কারা আল আমিনের নির্মাধীন দোকানটির পূর্ব পাশের দেয়ালটি ভেঙ্গে ফেলে।

ভুক্তভোগী আল আমিন বলেন, ‘সম্পদ নিয়ে প্রতিবেশী আল আহমদের সাথে বিরোধ রয়েছে। ৪৮৩৮ দাগে বাড়ীর সম্পত্তি নিয়ে তার সাথে মামলা চলমান। যে দাগে আমি দোকান নির্মাণ করছি, সে দাগ নিয়ে কারো সাথে বিরোধ নেই। তারপরও কে/কারা আমার দোকানটি ভেঙে দিয়েছে। আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। সমাজের বোঝা হতে চাইনা। সকলের সহযোগিতায় আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। আমি সরকার এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আহমদ তার কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হন। সেসকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চাঁদপুরে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা নং ১২৯০/২০২৬। সেখানে বিএস ৪৮৪০ দাগে ৫ শতক ভূমি বিরোধপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত সম্পত্তির সাথে আল আমিনের নির্মানাধীন দোকানের সম্পত্তির বিরোধের কোন সূত্র পাওয়া যায়নি। আলী নিজেও আল আমিনের দোকান ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দায়ীদের বিচার দাবী করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মাইনউদ্দিন বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধ থাকলে তা স্থানীয়ভাবে অথবা আইন আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। রাতের অন্ধকারে কারো স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া অবশ্যই নিন্দনীয়।