হাইমচরে হিফজ প্রতিযোগিতার চার বিভাগেই প্রথম হযরত আলী মাদ্রাসা

হাইমচরে হিফজ প্রতিযোগিতার চার বিভাগেই প্রথম হযরত আলী মাদ্রাসা

চাঁদপুরের হাইমচরে হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগেই প্রথম স্থান অর্জন করেছে হযরত আলী (রা.) হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। উপজেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় পাঁচ, দশ, বিশ ও ত্রিশ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষার্থী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের হাইমচর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায় পাঁচ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন হযরত আলী (রা.) হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুস্তাকিম। দশ পারা বিভাগে প্রথম হন শাহাবউদ্দিন। বিশ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ আহমেদ এবং ত্রিশ পারা বিভাগে প্রথম হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। চারজনই একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা রাশেদ বিন মুহসিন। প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের মুমিনবাড়ি মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ মাওলানা ইমদাদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের দারুল হাবীব মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ মাওলানা এনায়েতুল্লাহ।

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তম থেকে পঞ্চদশ স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীরা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পবিত্র কোরআন হিফজ, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন।

মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালালেন এমপি মানিক

হাইমচরে হিফজ প্রতিযোগিতার চার বিভাগেই প্রথম হযরত আলী মাদ্রাসা

মা ইলিশ রক্ষায় চলমান নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়েছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি মাছ ধরার প্রস্তুতিকালে নৌকা ও জাল জব্দ করে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে কি না এবং প্রশাসন কীভাবে অভিযান পরিচালনা করছে, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। অল্প কিছু জেলে নদীতে মাছ ধরতে নামার চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাঁদের প্রতিহত করছে বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে মা ইলিশ রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনের পাশাপাশি জেলেদেরও সহযোগিতা করতে হবে।

জেলেদের সরকারি খাদ্যসহায়তা প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, জেলেরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যসহায়তার চাল পুরোপুরি পান, সে বিষয়ে তিনি নজর রাখছেন। যাঁরা এখনো চাল পাননি, তাঁদের বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। জেলেরা যাতে যথাযথভাবে সরকারি সহায়তা পান, সে জন্য তাঁদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবিকা নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর দরজা সব সময় খোলা থাকবে।

ডিআরইউর সদস্য হলেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মহিউদ্দিন রাব্বানী

হাইমচরে হিফজ প্রতিযোগিতার চার বিভাগেই প্রথম হযরত আলী মাদ্রাসা

মহিউদ্দিন রাব্বানী। ছবি-সংগৃহীত

পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অস্থায়ী সদস্যপদ পেয়েছেন জাতীয় গণমাধ্যম ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ডিআরইউ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ছালেহ শিবলী।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআরইউ সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গঠনতন্ত্রের ৩(২)(ক) ধারা অনুযায়ী ৪০ জন সাংবাদিককে অস্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রায় ৪০০ আবেদনের বিপরীতে নানা যাচাই-বাছাই শেষে এই ৪০ জনকে মনোনীত করেছে বাছাই কমিটি। পরে কার্যনির্বাহী কমিটি তা অনুমোদন করে।

মহিউদ্দিন রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই পত্রপত্রিকা পড়া ও লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আমার সংবাদ, দৈনিক সবুজ বাংলা ও দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তার লেখালেখির অন্যতম বিষয় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাত। এসব বিষয়ে নিয়মিত সংবাদ ও প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ডিআরইউর অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ায় মহিউদ্দিন রাব্বানী সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ডিআরইউ দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন। সংগঠনটির সদস্যপদ সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ল চার বসতঘর, ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

হাইমচরে হিফজ প্রতিযোগিতার চার বিভাগেই প্রথম হযরত আলী মাদ্রাসা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে একই বাড়ির চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উভারামপুর গ্রামের দক্ষিণ পাটওয়ারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় আগুন লাগায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে অটোচালক চান মিয়া, সূর্য মিয়া, দিনমজুর মো. স্বপন ও হাবিবের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অটোচালক চান মিয়া ও দিনমজুর মো. স্বপন জানান, তাঁরা জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখেন, তাঁদের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তাঁরা।

তাঁরা বলেন, পরিধানের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এক মুহূর্তের আগুনে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুরের আগুনে চারটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাঁদের পুনর্বাসনে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন। এ ধরনের দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, একই বাড়ির চারটি অসচ্ছল পরিবারের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে।

আলমগীর হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজের মানবিক ব্যক্তিদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।