চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

চাঁদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে স্মৃতিস্তম্ভের বেদির নিচের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভের বেদির নিচের অংশে পেট্রোল ও টায়ার ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন জ্বলে ওঠার পরপরই তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

এদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনায় স্মৃতিস্তম্ভের নিচের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুর্বৃত্তরা হঠাৎ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৫ নভেম্বর কাতার যাওয়ার কথা, তার আগেই সড়কে নিভল তরিকের প্রাণ

চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

কাতার যাওয়ার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আগামী ১৫ নভেম্বর বিদেশে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল মো. তরিকের (৩২)। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের অভাব ঘোচাবেন, গড়বেন সুখের সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। বিদেশযাত্রার মাত্র ১২ দিন আগে থেমে গেল তাঁর জীবন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তরিক মতলব দক্ষিণ উপজেলার ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার মেনাপুর গ্রামে মামাশ্বশুরের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তরিক। পথে মেনাপুর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তরিক। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তাঁর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মোস্তাফিজুর রহমান (২২)। তাঁর বাবার নাম বাবুল প্রধানিয়া এবং মায়ের নাম শাহিনুর বেগম। তাঁর বাড়ি মকুন্দশার গ্রামে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পংকজ জানান, ওই যুবককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি মাসের ১৫ নভেম্বর তরিকের কাতার যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশযাত্রার সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, তাঁর উপার্জনে ঘুরে দাঁড়াবে সংসার। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার মাত্র ১২ দিন আগে দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

তরিকের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজন ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্কিন নির্বাচনে ফের সিনেটর হলেন হাজীগঞ্জের এমডি মাসুদুর রহমান

চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

ছবি-সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক রাজনীতিক জয় পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃতিসন্তান।

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংস পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট।

২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবার কানেকটিকাটের ৪ নম্বর আসন থেকে সিনেটর নির্বাচিত হন মাসুদুর রহমান। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে আসনটি ধরে রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সদস্য আবুল খানও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।

মাসুদুর রহমান পাটওয়ারী হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাইমুড়ি গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত নুরুল হক পাটওয়ারীর সন্তান।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক মার্কিন নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান ওবায়েদ উল্লাহ ভূলন

চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

ওবায়েদ উল্যাহ ভূলন। ছবি-সংগৃহীত

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদল নেতা ওবায়েদ উল্লাহ ভূলন। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

ওবায়েদ উল্লাহ ভূলন কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বড় ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা শহীদ এবিএম সলিম উল্লাহ মিলন। জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করার কারণে ১৯৯২ সালে সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি শহীদ হন বলে জানা গেছে।

ওবায়েদ উল্লাহ ভূলনের বাবা মরহুম আব্দুল জলিল নায়েব ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কচুয়ার প্রসিদ্ধ সমাজসেবক। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবার স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেছে। পারিবারিকভাবেও তাঁদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ওবায়েদ উল্লাহ ভূলন। ছাত্রদলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি কচুয়াকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চান।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ওবায়েদ উল্লাহ ভূলনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। বিশেষ করে কচুয়ার তরুণ সমাজের মধ্যে তাঁকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ওবায়েদ উল্লাহ ভূলন কচুয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন।