চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে জাঁকজমকপূর্ণ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন
ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেড-এর পৃষ্ঠপোষকতায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক-এর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা বেকারত্ব দূর করতে এবং দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের সুযোগ বাড়াতে বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. এন. জামিউল হিকমা শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন খান আকাশ, দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেডের সিইও মো. মাইনুল হাসান দুলন, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহসহ সাবেক অধ্যক্ষ ও অন্যান্য অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধন করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ব্যাচভিত্তিক স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও প্রাণবন্ত আড্ডা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন সহকারী শিক্ষক মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষার্থী শাহজাহান সাজু এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক এম. আর. ইসলাম বাবু।
বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন-এর পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
দিনব্যাপী এ আয়োজন স্মৃতি, ভালোবাসা ও গৌরবময় ইতিহাসের আবহে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফিরে পান তাঁদের প্রিয় ক্যাম্পাসের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি।



















