ফরিদগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ মাদ্রাসা প্রভাষকের বিরুদ্ধে
যোগদান থেকে শুরু করে আট মাসের চাকরী জীবনে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২ দিন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একনাগাড়ে ৬ মাস অনুপস্থিতির পর হঠাৎ করেই হাজির হয়েছেন প্রতিষ্ঠানে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাস বর্জন করেছেন অন্যান্য শিক্ষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী কে.এ. আলিম মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আরিফুজ্জামান। ইনডেক্স নং-M0080421। তিনি মাদ্রাসাটির আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক।
প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, আরিফুজ্জামান ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬ এ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে কড়ৈতলী কে.এ. আলিম মাদ্রাসায় আইসিটি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর পবিত্র মাহে রমজান এবং ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটিতে যায় প্রতিষ্ঠান। ছুটি শেষে ৪ এবং ৫ এপ্রিল মাদ্রাসায় হাজির ছিলেন তিনি। তারপর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। ৭ কর্ম দিবস সময় বেঁধে দিয়ে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতির কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম। শারিরীক অসুস্থতার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন তিনি। ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলে সহকর্মীদের অসন্তোষের মুখে পড়েন আরিফ। এ সময় সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের হাজিরা বাতিল করেন অধ্যক্ষ। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং গভর্নিং বডির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকেরা পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।
অভিযুক্ত প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, যোগদানের পর আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং ডাক্তার আমাকে ৬ মাসের পরিপূর্ণ বিশ্রামের জন্য পরামর্শ দেন। সে আলোকে গত ৬মাস বিশ্রামে ছিলাম। আমি সুস্থ্য হয়ে মাদ্রাসায় ফিরে এসেছি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের যে কোন সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেবো।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান যোগদানের পর থেকে মাত্র দুইদিন ক্লাসে উপস্থিত হন এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। অদ্য পহেলা অক্টোবর তিনি মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তাতে অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন এবং আমি তাদের আস্বস্ত করেছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সভাপতি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















