ফরিদগঞ্জে গাঁজাগাছ উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

ফরিদগঞ্জে গাঁজাগাছ উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে একটি গাঁজাগাছ উদ্ধার এবং এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ মে) রাতে উপজেলার দেইচর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় এসআই মো. রাকিবুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দেইচর গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় একটি বাড়ির আঙিনা থেকে প্রায় ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি গাঁজাগাছ উদ্ধার করা হয়।

একই সঙ্গে গাঁজা চাষের অভিযোগে মো. নজরুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের দেইচর গ্রামের নয়ন বাড়ির মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, উদ্ধার করা গাঁজাগাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম

সঠিক সমাজ গঠনের জন্য আইন ও প্রথার মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি— এডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম

ফরিদগঞ্জে গাঁজাগাছ উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

ছবি— এডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম

সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন ও প্রথা—এই দুইটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, যেখানে মানুষ যুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যাস বা প্রচলিত রীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

অনেকেই বলেন, “এটা তো আমরা সবসময় করে আসছি” কিংবা “এটাই তো আমাদের সমাজের নিয়ম”। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—শুধু প্রচলিত থাকার কারণে কোনো বিষয় গ্রহণযোগ্য হতে পারে কি? নাকি আইনের অবস্থানই সর্বোচ্চ?

আইন (Law) হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত বিধান, যা সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রণয়ন করা হয়। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান থাকে এবং তা আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। অন্যদিকে প্রথা (Custom) হলো সমাজের দীর্ঘদিনের অভ্যাস, সংস্কৃতি ও আচরণগত রীতি, যা মানুষের মধ্যে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে আইনের পাশাপাশি প্রথাও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশেষত বিচারিক কার্যক্রমে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চর্চা বা প্রচলিত বাস্তবতা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করে। তবে সেই প্রভাব সবসময় আইনকে অতিক্রম করে না; বরং আইন ও বাস্তবতার সমন্বয় হিসেবেই বিবেচিত হয়।

আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে মানুষের প্রত্যাশা ও আইনের ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। কোনো ব্যক্তি মৌখিক চুক্তি বা পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি বিষয়ে যুক্ত হন, কিন্তু পরবর্তীতে বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনের আশ্রয় নেন। তখন আদালতকে শুধু ঘটনার সামাজিক দিক নয়, আইনি কাঠামোও বিবেচনায় নিতে হয়।

আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ সচেতনভাবে ঝুঁকি গ্রহণ করলেও পরবর্তী সময়ে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন একতরফাভাবে নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। ফলে আইনের প্রয়োগ, বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক বাস্তবতা—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আইন ও প্রথার মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। আইন লিখিত, রাষ্ট্রীয় এবং বাধ্যতামূলক; অন্যদিকে প্রথা অলিখিত, সামাজিক এবং সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা আচরণগত কাঠামো। আইন পরিবর্তন করা সম্ভব সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, কিন্তু প্রথা পরিবর্তন সাধারণত ধীরগতিতে ঘটে।

বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় এর উদাহরণও রয়েছে। বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ হলেও কিছু এলাকায় সামাজিক প্রথা হিসেবে তা এখনো বিদ্যমান। নারীর উত্তরাধিকার অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত হলেও অনেক পরিবারে মেয়েদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। অর্থাৎ আইন একদিকে অধিকার নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে কিছু প্রচলিত প্রথা সেই বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তবে এটাও সত্য যে, সমাজ পরিচালনায় সব প্রথা নেতিবাচক নয়। অনেক ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধও প্রথার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। তাই প্রথাকে পুরোপুরি অস্বীকার নয়, বরং আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আইনের অবস্থান সর্বোচ্চ। কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথার প্রভাবও অনস্বীকার্য। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য আইন ও প্রথার মধ্যে সংঘাত নয়, বরং ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

লেখক:
এডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ)

ঈদের আগে আজও খোলা সব ব্যাংক, বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে লেনদেন

ফরিদগঞ্জে গাঁজাগাছ উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। এ কারণে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন আজ শনিবার (২৩ মে) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এ সময় গ্রাহকরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া আনুষঙ্গিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে।

এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম এলাকার পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো আগামী ২৫ ও ২৬ মে সীমিত আকারে খোলা থাকবে।

ওই দুই দিনে ব্যাংকের অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে সপ্তাহে সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঈদের ছুটিকালেও (ঈদের দিন ব্যতীত) সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছুটির সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা পাবেন।

কচুয়ায় ইউএনও’র গানম্যান আনসার সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার

ফরিদগঞ্জে গাঁজাগাছ উদ্ধার, যুবক গ্রেফতার

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের গানম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শাহ মনিরকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া মাছ আড়ৎ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত শাহ মনির শাহ মনির লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর পার্বতী ইউনিয়নের হিলা বাইচা মোল্লা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং শাহ আলমের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে শাহ মনির কড়ইয়া মাছ আড়ৎ এলাকায় যান। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, আনসার সদস্য শাহ মনিরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।