চাঁদপুরে এক মাসে রেমিট্যান্স ৮৮ কোটি টাকা, অর্থনীতিতে প্রবাসীদের বড় অবদান
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে চাঁদপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে ৮৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রবাসীর পাঠানো অর্থে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে।
চাঁদপুরে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে দেশ কৃষি ব্যাংক।
ব্যাংকভিত্তিক রেমিট্যান্স (জানুয়ারি)
সোনালী ব্যাংক: ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা
জনতা ব্যাংক: ২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা
অগ্রণী ব্যাংক: ২২ কোটি ২১ লাখ টাকা
দেশ কৃষি ব্যাংক: ২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা
রূপালী ব্যাংক: ৫ কোটি টাকা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ জেলার প্রায় দুই শতাধিক ব্যাংক শাখা ও অসংখ্য শপিংমলে তারল্য সৃষ্টি করছে। বাড়িঘর নির্মাণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে রেমিট্যান্স বড় ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী শ্রমিকের বৈশ্বিক বিস্তার
চাঁদপুরের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার বৈধ প্রবাসী শ্রমজীবীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার। এরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত।
বিশ্বে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব—যেখানে প্রায় ৫৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া।
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ
চাঁদপুরের সোনালী ব্যাংক-এর এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও সহায়ক।
অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংক-এর এক কর্মকর্তা জানান, “প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ শুধু পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নত করছে না, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সচল রাখছে।”
বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স এসেছে, তবে বেসরকারি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আসা অর্থের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকৃত রেমিট্যান্সের অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















