চাঁদপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২০০ জন

চাঁদপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২০০ জন

চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঠখোলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। মঠখোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এবং ফাস্ট এইড ল্যাব অ্যান্ড ডক্টরস পয়েন্টের সৌজন্যে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এ সময় ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরিমাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সৌরভ গাইন।

মঠখোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ব্রজ গোপাল আচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডা. সৌরভ গাইন। তিনি বলেন, মঠখোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। মানবতার কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনটি ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঠখোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অনিল আচার্য, ননী গোপাল আচার্য ও প্রাণ গোপাল আচার্য; সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় পাল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফাস্ট এইড ল্যাব অ্যান্ড ডক্টরস পয়েন্টের পরিচালক শ্যামল আচার্য; কমল আচার্য, সাগর আচার্য, কোষাধ্যক্ষ সুব্রত আচার্য, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তপন আচার্য, পিয়াস আচার্য, সদস্য রতন রায়, সৈকত আচার্য, রাহুল আচার্য, দ্বীপ আচার্য, তীর্থ আচার্য ও শিশির আচার্যসহ অন্যরা।

বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরিমাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ল চার বসতঘর, ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

চাঁদপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২০০ জন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে একই বাড়ির চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উভারামপুর গ্রামের দক্ষিণ পাটওয়ারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় আগুন লাগায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে অটোচালক চান মিয়া, সূর্য মিয়া, দিনমজুর মো. স্বপন ও হাবিবের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অটোচালক চান মিয়া ও দিনমজুর মো. স্বপন জানান, তাঁরা জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখেন, তাঁদের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তাঁরা।

তাঁরা বলেন, পরিধানের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এক মুহূর্তের আগুনে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুরের আগুনে চারটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাঁদের পুনর্বাসনে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন। এ ধরনের দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, একই বাড়ির চারটি অসচ্ছল পরিবারের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে।

আলমগীর হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজের মানবিক ব্যক্তিদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

হাজীগঞ্জে শিক্ষকের বসতঘরে চুরি, ২০ হাজার টাকার মালামাল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ

চাঁদপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২০০ জন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক শিক্ষকের বসতঘরে চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনটি সিলিং ফ্যানসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর কালচোঁ ইউনিয়নের খিলপাড়া এলাকার মিজি বাড়িতে শিক্ষকের নিজস্ব বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। গত ১৩ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ১৪ অক্টোবর সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে আনুমানিক ১২ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি সিলিং ফ্যান ও সেগুলোর কভারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

চাঁদপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২০০ জন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর লঞ্চ টার্মিনালের কাছে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি নড়িয়া-২-এর সঙ্গে একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা লেগেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে লঞ্চে থাকা ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজিব সৈয়াল জানান, মোহনপুর ঘাটে যাত্রী ওঠানোর জন্য লঞ্চটি ভেড়ানোর সময় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এ সময় বিকট শব্দ হলে লঞ্চের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন।

লঞ্চটির মাস্টার ফয়েজ পাটোয়ারী বলেন, মোহনপুর ঘাটে ভেড়ানোর সময় বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তবে লঞ্চটির তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য বলেন, লঞ্চের সঙ্গে বাল্কহেডের ধাক্কার বিষয়ে তাঁকে কেউ জানাননি। এমভি নড়িয়া-২ লঞ্চটির রুট পারমিট রয়েছে। এটি নারায়ণগঞ্জ-নড়িয়া রুটে চলাচল করে, চাঁদপুর ঘাটে আসে না বলে জানান তিনি।