মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর লঞ্চ টার্মিনালের কাছে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি নড়িয়া-২-এর সঙ্গে একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা লেগেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে লঞ্চে থাকা ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজিব সৈয়াল জানান, মোহনপুর ঘাটে যাত্রী ওঠানোর জন্য লঞ্চটি ভেড়ানোর সময় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এ সময় বিকট শব্দ হলে লঞ্চের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন।

লঞ্চটির মাস্টার ফয়েজ পাটোয়ারী বলেন, মোহনপুর ঘাটে ভেড়ানোর সময় বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তবে লঞ্চটির তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য বলেন, লঞ্চের সঙ্গে বাল্কহেডের ধাক্কার বিষয়ে তাঁকে কেউ জানাননি। এমভি নড়িয়া-২ লঞ্চটির রুট পারমিট রয়েছে। এটি নারায়ণগঞ্জ-নড়িয়া রুটে চলাচল করে, চাঁদপুর ঘাটে আসে না বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহিম, সন্ধান চায় পরিবার

মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

চাঁদপুরে গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ফাহিম নামে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি। বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

নিখোঁজ ফাহিমের বাবার নাম মোঃ আবুল হোসেন ভূঁইয়া। তাঁর ঠিকানা চেয়ারম্যানঘাট, জি.টি. রোড, আখন্দ বাড়ি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর পরনে ছিল নীল রঙের গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফাহিমের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি ফাহিমকে কোথাও দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারলে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

যোগাযোগ:
০১৮১১৫২৯৬৪৯
০১৭০৪৪৪৫০৫৮

কচুয়ায় শিক্ষক মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে শিক্ষক সমিতির শোক

মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

এক শোকবার্তায় সমিতির সভাপতি ও মাসনিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিন উল্যাহ এবং সাধারণ সম্পাদক ও বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, মিজানুর রহমান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

চাঁদপুরে জেলেদের ৫টন চাল জব্দ, বিক্রির অভিযোগে তদন্ত কমিটি

মতলবে লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা, আতঙ্কে যাত্রীরা

মা ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রায় ৫টন চাল গোপনে বিক্রির পর নিয়ে যাওয়ার সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় ৩ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল শহরের বিপনীবাগ বাজার এলাকা থেকে জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই আলোকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১.২৫ মেট্টিক টন। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ হয়নি।

চাল বিতরণ না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

চুরি করে বিক্রি করে দেয়া চাল পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন পিকআপ চালক শাহাদাত। তিনি বলেন, চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে তিনি ওই চালের ভাড়া নিয়ে কুমিল্লার লাকসাম যাচ্ছিলেন। চালের মালিকের নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে লাকসাম যাওয়া হলে ওই ব্যাক্তির নাম দেয়া হবে। কিন্তু পথিমধ্যে হাজীগঞ্জে আসলে আমার কাছে ফোন আসে চালগুলো ফেরত নিয়ে আসার জন্য। যে কারণে আমি ফেরত নিয়ে আসছি। বিক্রিত টোকেনে চালের পরিমাণ লেখা ছিলো ৪৯৩০ কেজি। চালের মালিকের নাম ছিলো না।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাল চুরি করে বিক্রির তথ্য জানাজানি হলে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। তার খুব নিকটের লোকদেরও এই ঘটনার পর মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। যে কারণে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে এই কর্মকর্তা চাল বিক্রির সাতে জড়িত।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম অভিযান সম্পর্কে বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পান জেলেদের বরাদ্দ চার জেলার বাহিরে যাচ্ছে। ওই চাল খুঁজে এবং অভিযান করে আটক করি। সেই আলোকে বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে৭টা পর্যন্ত অভিযান করে সর্বশেষ শহরের বিপনীবাগ থেকে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে আমার কাছে মেসেজ এসেছে এই চাল লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত। এই কাজে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিবে।

এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে কেন লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের চাল বিতরণ হয়নি এই তথ্য জানার জন্য বরাদ্দের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার কাছে ফোন দেয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করে মেসেজ দিতে বলেন। কিন্তু তিনি চাল বিতরণ দেরি হওয়ার কারণ না বলে মেসেজে লিখেন চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হবে।