রাশিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য বাড়াতে নতুন খাত খোঁজার তাগিদ
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং মানবসম্পদ রপ্তানিসহ নতুন খাতে বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।
এ ছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইল বিবেচনায় নিয়ে বিটুবি (B2B) বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির সম্ভাবনাও কাজে লাগানো প্রয়োজন।
রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতিও আলোচনায়
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
বৈঠক শেষে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শ্রীলঙ্কা এক্সপোতে আমন্ত্রণ
এদিকে, বুধবার বিকেলে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি।
বৈঠকে হাইকমিশনার জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এফবিসিসিআই প্রশাসক শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭-এ বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।
দুই বৈঠকেই এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীরসহ রাশিয়ান দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















