জাতীয় বাজেটকে ‘নৈতিক দলিল’ হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান

জাতীয় বাজেটকে ‘নৈতিক দলিল’ হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে নয়, বরং বৈষম্য হ্রাস ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নের নৈতিক দলিল হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মাহবুব উল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন নূরুন্নিসা সিদ্দিকা, ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, মাসুমুর রহমান খলিলী এবং ডা. মোহাম্মদ রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মোজাম্মেল হক এবং সঞ্চালনা করেন ড. খুরশীদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক সময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের আকার বাড়লেও কর আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে। সরকারি বিভাগগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বতন্ত্র বাজেট ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

প্রধান আলোচক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, প্রচলিত ধারণায় বাজেট সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব হলেও বাস্তবে তা অনেক সময় ধনিকগোষ্ঠীর কাছে সম্পদ স্থানান্তরের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাজেটকে এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে তা বৈষম্য না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন, সীমিত কৃষিজমির দেশে কৃষিখাতে বিশেষ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা জরুরি। পাশাপাশি কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত আবাসন নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি শিশু অপুষ্টি রোধে কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধে ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি, বেসরকারি, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদরাসা ধারায় বিভক্ত হওয়ায় সমমানের দক্ষতা ও নাগরিক চেতনা গড়ে উঠছে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় STEM শিক্ষা, গবেষণা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ জরুরি বলে মত দেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উচ্চমূল্যের বেসরকারি ও অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত সরকারি সেবার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বহু পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডেটাবেজ, টেলিমেডিসিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষিখাত নিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণের চাপ ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে প্রান্তিক কৃষকরা সংকটে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, আধুনিক সংরক্ষণাগার ও কৃষকবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজেটে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের সুরক্ষা ও বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের কম বেতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।

ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই কৃষিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

ডা. মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ধীরে ধীরে পণ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে বিদেশে চিকিৎসা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, বাজেটের বিভিন্ন ভর্তুকি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই গবেষণার মাধ্যমে আগাম ফসল উৎপাদনে সক্ষম জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে বাস্তব চাহিদার সংযোগ এখনও দুর্বল। গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ, ব্লু ইকোনমি ও বায়ো ইকোনমিতে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চাঁদপুরে শিল্পোদ্যোক্তা তৈরিতে উৎপাদনমুখী ব্যবসার ওপর গুরুত্ব

জাতীয় বাজেটকে ‘নৈতিক দলিল’ হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা খুলবে ব্যবসার দ্বার’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে এগিয়ে আসতে হবে।

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। বাংলাদেশেও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। আইবিডাব্লিউএফের সদস্য হতে ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়; সততাই এখানে প্রধান যোগ্যতা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিন বছরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মেশিনে পণ্য উৎপাদনের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইবিডাব্লিউএফ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৎ ও আদর্শবান উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

জাতীয় বাজেটকে ‘নৈতিক দলিল’ হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করার অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ওই এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর বাপ-দাদারা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছেন। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন।

আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ওই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র সেখানে পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে চক্রটি আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করে।

ইউএনও আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নন; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে চক্রটি আবারও একই কাজ শুরু করে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইউএনওর সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তাঁরা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব জমির মালিক সরকার। সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। গত চার মাস নদী উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন ছিল। এই সুযোগে চক্রটি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতলবে ট্রলি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

জাতীয় বাজেটকে ‘নৈতিক দলিল’ হিসেবে প্রণয়নের আহ্বান

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঠেটালিয়া এলাকার শম্ভুখাঁর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আক্তারুজ্জামান একটি বেসরকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রমির মতলব উত্তর উপজেলার পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার হানিরপাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের এলাহী বক্স ও জরিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী ও এক মেয়েসহ অনেক স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কোম্পানির খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আক্তারুজ্জামান। উপজেলার সাহেববাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথে স্ত্রীকে ফোন করে ভাত বেড়ে রাখতে বলেন। বাড়ি ফিরেই ভাত খাবেন বলে জানান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শম্ভুখাঁর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ট্রলির নিচে চাপা পড়েন। তাঁর মাথা, থুতনি ও দুই পা থেঁতলে যায়।

দুর্ঘটনার পর তাঁর মুঠোফোনটি সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই ফোন থেকে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমারে রাইখা স্বামী চইলা গেল। স্বামী ছাড়া আমার কী অইব। মেয়েডার কী অইব, কে তাঁরে দেইখা রাখব। আমার সব শেষ। স্বামীরে ছাড়া এহন ক্যামনে বাঁচুম।’

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া ওই বিক্রয় প্রতিনিধির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।