চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরিচিতি ও সুধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিকের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর দাস, পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারী, গুপ্তি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি জেনারেল শেখ সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন, গৃদকালিন্দিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।
বক্তারা ফরিদগঞ্জের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদকের বিস্তার রোধ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সরকারি সেবা প্রদানে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নবাগত ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ফরিদগঞ্জের ঐতিহ্য, সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষার হার প্রশংসনীয়। এ অঞ্চলের অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মতবিনিময় সভায় স্থানীয়দের বক্তব্যও অত্যন্ত অর্থবহ ও যুক্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাদকের বিস্তার রোধ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, এটি শুধু ফরিদগঞ্জ নয়, জাতীয় পর্যায়ের একটি চ্যালেঞ্জ। তাঁর ভাষ্য, ফরিদগঞ্জে মাদক উৎপাদন না হলেও বিভিন্ন রুটে বাইরে থেকে মাদক প্রবেশ করতে পারে। তাই থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মাদক প্রবেশের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কিশোর গ্যাং ও তরুণদের অপরাধপ্রবণতা রোধে পরিবারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সমাজেরই সন্তান। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। সন্তান বা পরিবারের কিশোর-তরুণ সদস্যরা কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্টফোন ও অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেন ইউএনও। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদকে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় শৃঙ্খলা আনা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনায় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত ইউএনও।