চাঁদপুর জেলা কারাগারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা কারাগার-এ বন্দি ও স্টাফদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ষবরণ উদযাপন করা হয়েছে।
নববর্ষের সকালে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। সকালের মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, আলুর দম, মরিচ ও পেঁয়াজ। দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, ডিম, মিষ্টি, কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।
কারা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের নিয়ে দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে হাডুডু খেলা, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা বন্দিদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
স্টাফদের জন্যও পৃথকভাবে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। সকালের নাস্তায় পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করা হয়। দুপুরে পোলাও, গরু ও মুরগির মাংস, ডাল, সালাদ এবং কোমল পানীয় দেওয়া হয়। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত ও মাছ।
স্টাফদের ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল শিশুদের বিস্কুট দৌড়, মহিলাদের চেয়ার খেলা এবং বড়দের হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা, যা সবার মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
এছাড়া চাঁদপুর জেলা প্রশাসন-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় কারাগারের একটি স্টলও অংশ নেয়। সেখানে বন্দিদের তৈরি হস্তশিল্প ও পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
নববর্ষ উপলক্ষে বক্তব্যে কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং তাদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।



















