৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আমিনুল ইসলাম (অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদা) আগামী ৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসবেন। সফরকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে সফরকালে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

পত্র অনুযায়ী, সফরসূচিতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আমিনুল ইসলাম সড়কপথে নিজ বাসভবন থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ-কুমিল্লা-গৌরীপুর হয়ে চাঁদপুরে পৌঁছাবেন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী পাঁচগাঁও এলাকার তওহাদার বাড়ি (এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা) অবস্থান করবেন।

সফর শেষে বিকেলে তিনি পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সফরকালে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, চাঁদপুর সদর মডেল থানা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ও অবস্থানকালীন সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ মে নির্ধারিত এ সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করার অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ওই এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর বাপ-দাদারা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছেন। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন।

আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ওই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র সেখানে পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে চক্রটি আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করে।

ইউএনও আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নন; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে চক্রটি আবারও একই কাজ শুরু করে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইউএনওর সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তাঁরা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব জমির মালিক সরকার। সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। গত চার মাস নদী উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন ছিল। এই সুযোগে চক্রটি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতলবে ট্রলি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঠেটালিয়া এলাকার শম্ভুখাঁর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আক্তারুজ্জামান একটি বেসরকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রমির মতলব উত্তর উপজেলার পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার হানিরপাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের এলাহী বক্স ও জরিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী ও এক মেয়েসহ অনেক স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কোম্পানির খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আক্তারুজ্জামান। উপজেলার সাহেববাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথে স্ত্রীকে ফোন করে ভাত বেড়ে রাখতে বলেন। বাড়ি ফিরেই ভাত খাবেন বলে জানান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শম্ভুখাঁর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ট্রলির নিচে চাপা পড়েন। তাঁর মাথা, থুতনি ও দুই পা থেঁতলে যায়।

দুর্ঘটনার পর তাঁর মুঠোফোনটি সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই ফোন থেকে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমারে রাইখা স্বামী চইলা গেল। স্বামী ছাড়া আমার কী অইব। মেয়েডার কী অইব, কে তাঁরে দেইখা রাখব। আমার সব শেষ। স্বামীরে ছাড়া এহন ক্যামনে বাঁচুম।’

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া ওই বিক্রয় প্রতিনিধির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহরাস্তিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার কোনো এক মফস্বল এলাকায় মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। তবে মিছিলের সুনির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিছিল শেষে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও হিসাব-নিকাশ।

জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন সুজনের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মিছিলের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলার জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কতিপয় ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও ঠিকাদার নেপথ্যে থেকে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রলীগকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, এর মাধ্যমে উপজেলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়টি তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।