কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম আড্ডা

কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম আড্ডা

কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা, নজরুলসংগীত, পুঁথিপাঠ ও বাউলগানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম সাহিত্য আড্ডা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় চাঁদপুর জোড়পুকুরপাড়স্থ মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন মিলনায়তনে এ আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।

আড্ডায় উপস্থাপনা ও সঞ্চালনা করেন সুমন কুমার দত্ত। শুরুতে সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

আড্ডায় কবিতা ও ছড়া পাঠ করেন তানজিল কোতোয়ালি, আনিসুর রহমান, সোলাইমান তালহা, ইয়াসিন দেওয়ান, কাজী রাসেল, ফয়সাল মৃধা, মোখলেসুর রহমান ভূঁইয়া, কবির হোসেন মিজি, তাশফিয়া কাফিসহ অনেকে। ইয়াসিন দেওয়ান ‘স্মৃতির স্লোগান’ থেকে কবিতা পাঠ করেন। ফয়সাল মৃধা পাঠ করেন ‘শৈবাল’ কবিতা।

সাহিত্যবিষয়ক আলোচনায় ‘লেখালেখি শুরুর গল্প’ নিয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ হানিফ। অনুপ্রেরণা পান্ডুলিপি পুরস্কারজয়ী কবি ও সাহিত্যিক শাদমান শরীফ ‘লাল রঙের নামতা’ কবিতা পাঠ করেন। ‘সাহিত্য পাতা সম্পাদনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন আরিফুল ইসলাম শান্ত। এ ছাড়া সাহিত্য আড্ডারু খোদেজা মাহবুব বক্তব্য দেন।

আড্ডায় ‘নজরুল বিষয়ক বই’ নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আব্দুল গনি। ‘চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চায় নারী’ বিষয়ে আলোচনা করেন নুরুন্নাহার মুন্নি। ‘চাঁদপুরের ছোট কাগজ প্রকাশ’ নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও সাংবাদিক আশিক বিন রহিম।

‘লেখক সম্মাননা’ বিষয়ে আলোচনা করেন সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাঈনুল ইসলাম মানিক। হাজীগঞ্জ মডেল পাইলট কলেজের সহকারী অধ্যাপক মালেকা ফারবিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহহিল কাফী উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের মহাপরিচালক কাদের পলাশ বলেন, “বিগত দিনের তুলনায় আজকের আড্ডা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। সাহিত্য একাডেমি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসর তৈরি করবে।” তিনি নিয়মিত সাহিত্য আড্ডায় সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তিনজন সেরা আড্ডারুসহ নতুন অতিথিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরে খোকন মজুমদার নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। সবশেষে জনপ্রিয় পুঁথিপাঠ ও বাউলগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম সাহিত্য আড্ডা।

ব্রোকারেজ হাউজের অর্থ আত্মসাৎ: ফেরত পাচ্ছেন ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী

কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম আড্ডা

ছবি-সংগৃহীত

ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ তিনি এ কথা জানান।

ব্রোকারেজ হাউজের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে। স্বাভাবিক নিয়মে শেয়ারের দাম কমা-বাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। তবে বাজারের কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, বিগত দিনে দেখা গেছে, বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার বিভিন্নভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে তাদের হিসাবে মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে এ পর্যায়ে ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে।
যেসব বিনিয়োগকারীর পুরো অর্থ এ পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, তাদের টাকাও দ্রুত আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মমিনুল ইসলাম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বাকি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে ডিএসই ও বাজারসংশ্লিষ্ট অন্যরা তৎপর থাকবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনাদের কষ্টার্জিত টাকা আপনারা অনেক আশা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। আপনাদের যে ভীষণ মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না আশা প্রকাশ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং ব্রোকারেজ হাউজসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৭ হাজার ৯৬৭ বিনিয়োগকারীর তথ্য, তাদের বিনিয়োগের হিসাব এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা একটি কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটিও তারা সুচারুভাবে করতে পারবে বলে আশা করেন তিনি।

ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের অর্থের প্রধান উৎস ব্রোকারদের ট্রেড কমিশন এবং কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) সুদের ২৫ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এই অবদান ছাড়া ডিএসইর উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে, সেটি সামনের দিনে আরও জোরদার হবে। সবার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা, দেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পিলার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। সেই গন্তব্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবাই সফল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাজীগঞ্জে প্রাইভেটকারের চাপায় মক্তবে যাওয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম আড্ডা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রাইভেটকারের চাপায় রাফিয়া আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে হাজীগঞ্জ-গৌরীপুর সড়কের পাতানিশ মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাফিয়া আক্তার উপজেলার পাতানিশ গ্রামের বেপারি বাড়ির এমরান বেপারির মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন জানান, সোমবার ভোরে রাফিয়া মক্তবে পড়তে যাওয়ার পথে সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত শিশুটির বাবা এমরান বেপারি বলেন, “সকালে মক্তবে পড়তে পাঠাইছি। আজ আমার মেয়ে লাশ হয়ে ফিরলো।”

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাতে অযাচিত ঘোরাফেরা, শাহরাস্তিতে ৪৫ কিশোর আটক

কবিতা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ১৬তম আড্ডা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতে অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে ৪৫ কিশোরকে আটক করেছে থানা পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশের একাধিক টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, আটকের পর কিশোরদের রাতে ঘোরাফেরার কারণ জানতে চাওয়া হলে তারা সন্তোষজনক কোনো কারণ জানাতে পারেনি। পরে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়। অভিভাবকরা ভবিষ্যতে তাদের সন্তানরা রাতে অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোরাফেরা করবে না মর্মে পুলিশকে আশ্বস্ত করেন।

এ ছাড়া আটক কিশোরদের বিরুদ্ধে থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই প্রথমবারের মতো সংশোধনের সুযোগ হিসেবে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শাহরাস্তি থানা পুলিশ জানায়, কিশোরদের রাতে অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা, মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিশোরদের সুরক্ষা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।