পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: জেলা প্রশাসক

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: জেলা প্রশাসক

‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা বৃদ্ধি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. লুৎফর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন. জামিউল হিকমা।

সাংবাদিক ও উপস্থাপক এম. আর. ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. সলিম উল্যাহ সেলিম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, চাঁদপুর জেলা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জি. এম. শাহিন এবং প্রথম আলোর চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। পরিবেশবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন।

আলোচনা সভা শেষে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখা ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চাঁদপুরে শিল্পোদ্যোক্তা তৈরিতে উৎপাদনমুখী ব্যবসার ওপর গুরুত্ব

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: জেলা প্রশাসক

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা খুলবে ব্যবসার দ্বার’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে এগিয়ে আসতে হবে।

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। বাংলাদেশেও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। আইবিডাব্লিউএফের সদস্য হতে ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়; সততাই এখানে প্রধান যোগ্যতা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিন বছরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মেশিনে পণ্য উৎপাদনের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইবিডাব্লিউএফ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৎ ও আদর্শবান উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করার অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ওই এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর বাপ-দাদারা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছেন। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন।

আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ওই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র সেখানে পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে চক্রটি আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করে।

ইউএনও আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নন; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে চক্রটি আবারও একই কাজ শুরু করে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইউএনওর সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তাঁরা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব জমির মালিক সরকার। সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। গত চার মাস নদী উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন ছিল। এই সুযোগে চক্রটি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতলবে ট্রলি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: জেলা প্রশাসক

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঠেটালিয়া এলাকার শম্ভুখাঁর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আক্তারুজ্জামান একটি বেসরকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রমির মতলব উত্তর উপজেলার পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার হানিরপাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের এলাহী বক্স ও জরিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী ও এক মেয়েসহ অনেক স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কোম্পানির খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আক্তারুজ্জামান। উপজেলার সাহেববাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথে স্ত্রীকে ফোন করে ভাত বেড়ে রাখতে বলেন। বাড়ি ফিরেই ভাত খাবেন বলে জানান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শম্ভুখাঁর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ট্রলির নিচে চাপা পড়েন। তাঁর মাথা, থুতনি ও দুই পা থেঁতলে যায়।

দুর্ঘটনার পর তাঁর মুঠোফোনটি সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই ফোন থেকে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমারে রাইখা স্বামী চইলা গেল। স্বামী ছাড়া আমার কী অইব। মেয়েডার কী অইব, কে তাঁরে দেইখা রাখব। আমার সব শেষ। স্বামীরে ছাড়া এহন ক্যামনে বাঁচুম।’

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া ওই বিক্রয় প্রতিনিধির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।