নিজের শরীরে স্যালাইন, তবুও থামেনি রোগী দেখা—মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত
ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১২টা। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। কেউ চিকিৎসকের অপেক্ষায়, কেউ স্বজনকে নিয়ে ছুটছেন জরুরি সেবার আশায়। চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও অপেক্ষমাণ রোগীদের দীর্ঘ সারি।
এর মধ্যেই জানা গেল, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। নার্সরা তাকে ইনজেকশন দেওয়ার পাশাপাশি শরীরে স্যালাইন দেন।
কিন্তু জরুরি বিভাগের রোগীর চাপ তখনও কমেনি। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য—নিজের হাতে ক্যানুলা, শরীরে স্যালাইন চলছে; সেই অবস্থাতেই আবার নিজের চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. ইরফান মাহমুদ।
একদিকে নিজের অসুস্থ শরীর সামলানোর চেষ্টা, অন্যদিকে জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা। স্যালাইনের ফোঁটা পড়ছে, আর সেই সঙ্গে একের পর এক রোগী দেখছেন তিনি। চিকিৎসকের এমন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার দৃশ্য উপস্থিত রোগী ও স্বজনদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের।
জানা যায়, দিনে দুই শিফটে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন চিকিৎসককে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ইরফান মাহমুদ। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে নিজের অসুস্থতার মধ্যেও রোগীদের ফেলে রাখতে পারেননি তিনি। শরীরে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। পরে অন্য একজন চিকিৎসক এসে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নেন।
ডা. ইরফান মাহমুদের এই দৃশ্য একদিকে একজন চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ, অন্যদিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বাস্তব চিত্রও সামনে এনেছে।



















