মতলবের কালিয়াইশে হতদরিদ্রের বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

মতলবের কালিয়াইশে হতদরিদ্রের বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিয়াইশ গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে মোস্তফা প্রধান নামে এক হতদরিদ্র ব্যক্তির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা প্রধানের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে আসা এক নিকটাত্মীয়কে এগিয়ে দিতে ঘর থেকে বের হন। এ সময় হঠাৎ তাঁরা ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। দ্রুত ফিরে এসে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনের ঝুঁকি থাকায় অনেকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বসতঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে পাশের একটি ঘরের টিন ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তফা প্রধান জানান, ঘরের ভেতরে একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া লক্ষাধিক টাকা রাখা ছিল। আগুনে ওই টাকাসহ ঘরের সব মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর ধারণা, নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের যুবদল নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহরিয়ার বলেন, মোস্তফা প্রধান একজন দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁর একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় তিনি পরিবারটির সহায়তায় এলাকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মতলব দক্ষিণ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান তুহিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ কারণে পথ থেকেই ফিরে আসে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি।

ডিজিটাল হচ্ছে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন, রোধ হবে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে

মতলবের কালিয়াইশে হতদরিদ্রের বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থা সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কাজীকে অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কোনো ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। এনআইডির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে কারও পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হলে ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থা যাচাই করা সহজ হবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বা সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত তথ্যের ভিত্তিতে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিদেশগামী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ডিজিটাল ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তির বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই করা সহজ হবে।
এদিকে, ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রভাব কমাতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কারণে বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তদবিরের মুখে পড়তে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫

মতলবের কালিয়াইশে হতদরিদ্রের বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় শাওন (২২) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মান্নান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব শর্মার নির্দেশনায় এসআই নুরে আলম, এসআই মো. নাজমুল আলম ও এসআই মো. জহির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৃথক অভিযান চালান। এ সময় মাদকদ্রব্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোয়া এলাকার মো. হাসেম (৩৮), মকিমাবাদ এলাকার মো. হারুন (২৮), চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের লোদেরগাঁও এলাকার শাহ আলম (৫২), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ এলাকার সোহাগ আহমেদ (৪২) এবং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাউরা এলাকার পলাশ (২৩)। একই দিন নাটেহরা এলাকার শাওন (২২)কেও ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাদকসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১০(ক)/১৯(ক) উপধারায় হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার শাওনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে শনিবার (৩ অক্টোবর) যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

৩ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে ফিরল হারিয়ে যাওয়া শিশু

মতলবের কালিয়াইশে হতদরিদ্রের বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সের ফটকসংলগ্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ৮–৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাতকে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিশুটিকে ওই এলাকায় পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সন্ধানে তৎপর হয় পুলিশ। পরে প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।

শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

পাশাপাশি, শিশুটির পরিবারের সন্ধানে পুলিশের আগের পোস্টটি শেয়ার করে সহযোগিতা করায় সবার প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।