শাহরাস্তি থানার ‘গোলঘর’-এ বন্ধ হলো দরবার-শালিস, থানার কম্পাউন্ডেও নিষেধাজ্ঞা

শাহরাস্তি থানার ‘গোলঘর’-এ বন্ধ হলো দরবার-শালিস, থানার কম্পাউন্ডেও নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘদিনের পরিচিত চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানার ‘গোলঘর’-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান। একই সঙ্গে থানার পুরো কম্পাউন্ডের ভেতরে সব ধরনের দরবার ও শালিস বৈঠক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শাহরাস্তি মডেল থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ ও ছোটখাটো সামাজিক সমস্যার প্রাথমিক সমাধানে থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে দরবার ও শালিস হয়ে আসছিল। এসব বৈঠকের অন্যতম কেন্দ্র ছিল থানার বহুল পরিচিত ‘গোলঘর’।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই গোলঘরে একাধিক শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের সঙ্গে থানার অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে গোলঘরও আধুনিকায়ন করা হয়। ২০১৮ সালে নির্মাণ করা হয় গোলঘরের নতুন ভবন।

তবে সম্প্রতি ওসির নির্দেশে গোলঘরে সব ধরনের দরবার ও শালিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু গোলঘর নয়, থানার পুরো কম্পাউন্ডেই কোনো ধরনের শালিসি বৈঠক করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গোলঘরের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরও থানার পাশের চায়ের দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালত রয়েছে। পুলিশের কাজ দরবার করা নয়।”

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দরবার ও শালিসকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও উশৃঙ্খল আচরণের ঘটনা ঘটে। এতে থানার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। এ কারণেই থানার ভেতরে সব ধরনের দরবার ও শালিস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক সমস্যা কিংবা ছোটখাটো বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্যোগী হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অক্ষুণ্ন রেখে অনেক সমস্যার সামাজিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। তবে এ ধরনের বৈঠক কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চাঁদপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন, ক্ষতি দুই লাখ টাকা

শাহরাস্তি থানার ‘গোলঘর’-এ বন্ধ হলো দরবার-শালিস, থানার কম্পাউন্ডেও নিষেধাজ্ঞা

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখার আবাসিক কক্ষে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্রের ক্ষতি হয়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের বাগাদী শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক মাহমুদা আক্তার।

মাহমুদা আক্তার জানান, ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আবাসিক কক্ষগুলোর জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে কাচের বোতলজাতীয় কিছু নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কক্ষের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ব্যাংকের অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরী নিত্য হাওলাদার জানান, গভীর রাতে জানালা দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবির, চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস নূর এবং উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান ও নাদির শাহসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁদপুরে শিল্পোদ্যোক্তা তৈরিতে উৎপাদনমুখী ব্যবসার ওপর গুরুত্ব

শাহরাস্তি থানার ‘গোলঘর’-এ বন্ধ হলো দরবার-শালিস, থানার কম্পাউন্ডেও নিষেধাজ্ঞা

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা খুলবে ব্যবসার দ্বার’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে এগিয়ে আসতে হবে।

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। বাংলাদেশেও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। আইবিডাব্লিউএফের সদস্য হতে ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়; সততাই এখানে প্রধান যোগ্যতা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিন বছরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মেশিনে পণ্য উৎপাদনের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইবিডাব্লিউএফ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৎ ও আদর্শবান উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

শাহরাস্তি থানার ‘গোলঘর’-এ বন্ধ হলো দরবার-শালিস, থানার কম্পাউন্ডেও নিষেধাজ্ঞা

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করার অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ওই এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর বাপ-দাদারা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছেন। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন।

আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ওই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র সেখানে পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে চক্রটি আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করে।

ইউএনও আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নন; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে চক্রটি আবারও একই কাজ শুরু করে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইউএনওর সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তাঁরা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব জমির মালিক সরকার। সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। গত চার মাস নদী উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন ছিল। এই সুযোগে চক্রটি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।