চাঁদপুরে কলেজছাত্রী শান্তা নিহতের ঘটনায় আইদি বাসের চালক গ্রেপ্তার
চাঁদপুর–কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে কলেজছাত্রী শান্তা নিহতের ঘটনায় অবশেষে আইদি পরিবহনের দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় আইদি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার চার দিন পর, ১১ জানুয়ারি নিহত শিক্ষার্থীর বাবা শামছুল হুদা বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইদি বাসের চালকসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলা নম্বর–৪৭; অভিযোগ আনা হয় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর কুমিল্লা ব–১১–০৩৭৩।
তদন্তের অংশ হিসেবে ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানের নির্দেশে এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে বাসচালক সফিউল্লাহ মিয়া (৫১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সফিউল্লাহ মিয়া কচুয়া উপজেলার গোহাট (উত্তর) ইউনিয়নের হারিচাইল (মুন্সিবাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রশিদ এবং মায়ের নাম ছায়েরা খাতুন।
এসআই আওলাদ হোসেন বলেন,
“পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাসের মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত চালককে আদালতে হাজির করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে শান্তার মৃত্যুতে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শান্তা ছিল নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী ও ভদ্র স্বভাবের একজন ছাত্রী। তার অকাল মৃত্যু সবাইকে মর্মাহত করেছে।
চালক গ্রেপ্তার ও বাস জব্দ করায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করলেও তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং স্থাপন ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান তারা।



















