দাউদকান্দিতে বেইলি সেতু ধসে চাঁদপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া এলাকায় একটি বেইলি সেতু ধসে পড়ায় চাঁদপুরের মতলবের সঙ্গে দাউদকান্দির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটি মেরামতের কাজ চলাকালে হঠাৎ খালে ধসে পড়ে। এ সময় সেতুর ওপর থাকা একটি যাত্রীবাহী নৌকাও পানিতে তলিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় নৌকায় থাকা ১৭ জন যাত্রী অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেইলি সেতুর একাংশ খালের মধ্যে উল্টে পড়ে রয়েছে। পানিতে ডুবে আছে যাত্রীবাহী নৌকাটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
একাধিকবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতু ধসে পড়ায় এখন খামারপাড়া, গৌরীপুর ও মতলবগামী মানুষকে বিকল্প পথে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতেও বিলম্ব হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সেতুর পাটাতন মরিচা পড়ে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় শ্রমিকরা সংযোগের নাট খুলে ফেললে পুরো সেতুটি খালে পড়ে যায়। ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সেতু ধসে যাওয়ায় দাউদকান্দির পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সেতুটি খুলে ফেলার কাজ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। খুলতে গিয়ে অদক্ষতার কারণে সেতুটি নিচে পড়ে যায়। এখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।”



















