বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় শাহরাস্তি মেহের ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোয়াভাঙ্গা এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের বিভেদ নয়, বরং ঐক্য ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালামুত সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটওয়ারী লিটন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক সহেল, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ সিকদার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আজগর মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবিএম পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে শাহরাস্তি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

চাঁদপুরে শিল্পোদ্যোক্তা তৈরিতে উৎপাদনমুখী ব্যবসার ওপর গুরুত্ব

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা খুলবে ব্যবসার দ্বার’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে এগিয়ে আসতে হবে।

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। বাংলাদেশেও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। আইবিডাব্লিউএফের সদস্য হতে ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়; সততাই এখানে প্রধান যোগ্যতা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিন বছরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মেশিনে পণ্য উৎপাদনের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইবিডাব্লিউএফ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৎ ও আদর্শবান উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমিতে ৫০টি ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করার অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ওই এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর বাপ-দাদারা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছেন। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন।

আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী বলেন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, ওই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র সেখানে পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে চক্রটি আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করে।

ইউএনও আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নন; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে চক্রটি আবারও একই কাজ শুরু করে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ইউএনওর সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তাঁরা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব জমির মালিক সরকার। সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। গত চার মাস নদী উত্তাল থাকায় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন ছিল। এই সুযোগে চক্রটি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতলবে ট্রলি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঠেটালিয়া এলাকার শম্ভুখাঁর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আক্তারুজ্জামান একটি বেসরকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রমির মতলব উত্তর উপজেলার পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার হানিরপাড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের এলাহী বক্স ও জরিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী ও এক মেয়েসহ অনেক স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কোম্পানির খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আক্তারুজ্জামান। উপজেলার সাহেববাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথে স্ত্রীকে ফোন করে ভাত বেড়ে রাখতে বলেন। বাড়ি ফিরেই ভাত খাবেন বলে জানান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শম্ভুখাঁর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ট্রলির নিচে চাপা পড়েন। তাঁর মাথা, থুতনি ও দুই পা থেঁতলে যায়।

দুর্ঘটনার পর তাঁর মুঠোফোনটি সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই ফোন থেকে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমারে রাইখা স্বামী চইলা গেল। স্বামী ছাড়া আমার কী অইব। মেয়েডার কী অইব, কে তাঁরে দেইখা রাখব। আমার সব শেষ। স্বামীরে ছাড়া এহন ক্যামনে বাঁচুম।’

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া ওই বিক্রয় প্রতিনিধির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।