জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগ থেকে ১ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৪৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা স্বর্ণের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সকাল ১১টা ১২ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আসা যাত্রী মো. শরিফ (পাসপোর্ট নম্বর: A01009640) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

পরে ওই যাত্রী স্বর্ণালংকারের ঘোষণা না দিয়েই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেন। এ সময় কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেন কর্মকর্তারা। পরে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলরুমে তাঁর হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে ৪৯টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা চুড়িগুলোর মোট ওজন ১ কেজি ৪৮০ গ্রাম। শুল্ক-করসহ এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা।

স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কচুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ যুবক আটক

জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ জুয়েল মিয়াজী (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার টাকা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দোয়াটি এলাকার একটি সেতুর ওপর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন জুয়েল মিয়াজীকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাঁর কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়াজী কচুয়া উপজেলার পালাখাল ইউনিয়নের পালাখাল গ্রামের মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা আবুল খায়ের এবং মা জাহানারা বেগম।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় কচুয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি ২৪ অক্টোবর নথিভুক্ত করা হয়।

কচুয়া থানা-পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়াজীকে রোববার (২৫ অক্টোবর) যথাযথ পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন, ক্ষতি দুই লাখ টাকা

জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখার আবাসিক কক্ষে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্রের ক্ষতি হয়নি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাগাদী ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের বাগাদী শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক মাহমুদা আক্তার।

মাহমুদা আক্তার জানান, ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আবাসিক কক্ষগুলোর জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে কাচের বোতলজাতীয় কিছু নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কক্ষের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ব্যাংকের অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরী নিত্য হাওলাদার জানান, গভীর রাতে জানালা দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবির, চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস নূর এবং উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান ও নাদির শাহসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁদপুরে শিল্পোদ্যোক্তা তৈরিতে উৎপাদনমুখী ব্যবসার ওপর গুরুত্ব

জেদ্দা থেকে আসা যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা খুলবে ব্যবসার দ্বার’ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে এগিয়ে আসতে হবে।

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। বাংলাদেশেও পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। আইবিডাব্লিউএফের সদস্য হতে ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা নয়; সততাই এখানে প্রধান যোগ্যতা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিন বছরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মেশিনে পণ্য উৎপাদনের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইবিডাব্লিউএফ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সৎ ও আদর্শবান উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।