১০ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে , উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার থেকে আশ্রাফ আহমেদ নবীন
চাঁদপুরে মাত্র ১০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থী মোঃ আশ্রাফ আহমেদ নবীন। সে পূর্ব শ্রীরামদী ৪নং ওয়ার্ডে ব্রিজের গোড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রদান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ সাহেবের তত্ত্বাবধানে সে হিফজ সম্পন্ন করে।
২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হিফজ শুরু করে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর তা সম্পন্ন করে আশ্রাফ আহমেদ নবীন। দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনের প্রচেষ্টায় সে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে। আশ্রাফ আহমেদ নবীন চাঁদপুর সদর উপজেলার পুরান বাজারের পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। আশ্রাফ আহমেদ নবীনের হিফজ সম্পন্ন উপলক্ষে মাদরাসার পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা হয় এবং আশ্রাফ আহমেদ নবীনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় তার মা-বাবা ও হিফজের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করা উস্তাদ দের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রদান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কুরআন হলো মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এটি হেদায়েতের আলো, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী এবং মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কুরআন নাজিল করেছেন এবং তিনিই একে সংরক্ষণ করবেন।
কুরআনের মূল আরবি পাঠ আল্লাহর হেফাজতে সংরক্ষিত। যুগে যুগে অসংখ্য হাফেজে কুরআন, কুরআনের শিক্ষক ও আলেম এই সংরক্ষণের ধারায় অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের প্রচেষ্টা আল্লাহর নির্ধারিত সংরক্ষণব্যবস্থারই অংশ। তাই
মাত্র ১০ বছর বয়সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার অশেষ রহমতে আশ্রাফ আহমেদ নবীন ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে। আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এ অর্জনের পেছনে তার অধ্যবসায়, মা-বাবার সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন তাকে কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দেন এবং দ্বীন ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত রাখেন।”
মাদরাসার পরিচালক দের পক্ষ থেকে আশ্রাফ আহমেদ নবীনকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়, তিনি যেন আশ্রাফ আহমেদ নবীন কে কুরআনের একজন হক্কানি হাফেজ হিসেবে কবুল করেন, তার মা-বাবার শ্রম ও ত্যাগের উত্তম প্রতিদান দেন এবং ভবিষ্যতে দ্বীনের একজন দায়ী হিসেবে দেশ ও জাতির খেদমত করার তাওফিক দান করেন। পাশাপাশি আশ্রাফ নবীনের পেছনে মেহনত করা সকল শিক্ষকের শ্রম কবুল করে তাঁদের দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়।
মাদরাসার পক্ষ থেকে শিক্ষাক হুজুরা আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, এ ধরনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে এবং পবিত্র কোরআনের আলো দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।




















