যানজট ও দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমাতে মতলব সেতুর ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
চাঁদপুরের মতলব সেতুর ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মতলব সেতু চালুর পর থেকেই সেতুর ওপর ও আশপাশে প্রায় অর্ধশত ভাসমান চটপটি, ফুচকা, হালিমসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান গড়ে ওঠে। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদের জন্য চেয়ার-টেবিল বসানো থাকায় সেতুর ওপর যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। সেতুর ওপর দোকান বসানোর কারণে যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছিল।
এছাড়া রাত পর্যন্ত মানুষের আড্ডা এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি মতলব সেতুর এপ্রোচ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেতুর ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান অপসারণের দাবি জোরালো হয়।
অভিযান শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সেতুকে স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান।
ইউএনও কে এম ইশমাম বলেন, “সেতুর ওপর দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমতি নেই। জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে স্থাপিত সব ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সেতুর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















