৯ বছর ধরে নিখোঁজ স্বামী, দুই সন্তান নিয়ে বিউটি আক্তারের জীবনসংগ্রাম
শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি জাহাঙ্গীর আলম। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ৯ বছর। স্বামীর কোনো সন্ধান না মিললেও আজও তাঁর ফেরার আশায় দিন গুনছেন স্ত্রী বিউটি আক্তার। দুই সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে তাঁর জীবনসংগ্রাম।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলদিঘী গ্রামের ইসলাম মাস্টারের বাড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। ২০১৮ সালে শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন বিউটি আক্তার। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তাঁদের বড় মেয়ে মুসফিকা তন্নী দশম শ্রেণির পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। ছেলে জুবায়ের হোসেন বর্তমানে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।
সন্তানদের খাবার, পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের চিন্তা সামলে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বিউটি আক্তারকে। স্বামী কোথায় আছেন, কেমন আছেন—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁর বিশ্বাস, একদিন হয়তো জাহাঙ্গীর আলম ফিরে আসবেন।
অন্যদিকে নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলমের বৃদ্ধ বাবা জামাল হোসেন ও মা কোহিনুর বেগমও ছেলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বাবা-মায়ের একটাই আকুতি—মৃত্যুর আগে যেন আর একবার প্রিয় ছেলেকে দেখতে পারেন।
দীর্ঘ ৯ বছরেও জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সন্ধান না মিললেও তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রতিটি দিনই তাঁরা অপেক্ষা করছেন, হয়তো কোনো একদিন হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়বেন জাহাঙ্গীর।
অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলমের সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।















