শাহরাস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

শাহরাস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ জয়নব বানু (জে.বি.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওমর ফারুক (শুখরঞ্জন)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর আনিসুর রহমান ও শাহেদুল আলম তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহের উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের রাব্বানী।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, শংকর চন্দ্র দাস, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহ আলম, মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মোহাম্মদ মাহবুব আলম, মোহাম্মদ মোস্তফা, মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও কাদের রাব্বানী।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী লায়ন কামাল হোসেন মুন্সী, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মাসুদ আলম, শাহেদুল আলম, মোহাম্মদ আল-আমিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও প্রবাসী কর্মক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গৌরবের।

বক্তারা ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং এ ধরনের পুনর্মিলনী আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চাঁদপুরে ৫ হাজারের বেশি অসহায় পরিবারে কোরবানির মাংস বিতরণ করল জামায়াত

শাহরাস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুরে কোরবানি দিতে না পারা অসহায় ও নিম্নআয়ের ৫ হাজারের বেশি পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখা। জেলা জামায়াতের আওতাধীন পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শতাধিক পশু কোরবানি দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি ও পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ বেলায়েত হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. সবুজ খান, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শেখ আবুল খায়ের মো. সালেহ, সমাজসেবক আব্দুর শুক্কুর মাস্তান, ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি গোলাম মাওলাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

শহর জামায়াত সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা সাতটি ষাঁড় কোরবানি করা হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব মাংস শহরের কোরবানি দিতে না পারা পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান বলেন, “সংগঠনের পক্ষ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়েছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সন্ধ্যার মধ্যেই অসহায় পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দিয়েছেন।”

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যেসব পরিবার কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না, তাদের মাঝে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পশু কোরবানি করে দুই দিনে ৫ হাজারের বেশি পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।”

আজ পবিত্র হজ

শাহরাস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফরজ আনুষ্ঠানিকতা আজ মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হজযাত্রী। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়া— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”।

ইসলামে এ দিনটি ইয়াওমে আরাফাহ নামে পরিচিত। হজের বিধান অনুযায়ী আজ সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা, যা হজের অন্যতম ফরজ কাজ।

আজ দুপুরে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে। পরে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন হাজিরা। এবারের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবাটি বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে সোমবার মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইহরাম পরিধান করে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হজযাত্রীরা মিনায় পৌঁছান এবং সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ নফল ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেন।

আজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। আগামী ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর তাওয়াফে ইফাদা ও সাঈ সম্পন্ন করবেন হজযাত্রীরা।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবে গেছেন।

এদিকে হজ মৌসুম শুরুর আগ পর্যন্ত ২৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জনে পৌঁছেছে। গত বছর মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন, যার মধ্যে বিদেশি হাজি ছিলেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন।

অন্যদিকে তীব্র তাপদাহের কারণে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীদের রোদছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান, তরল খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রোদে চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গরমের প্রভাব কমাতে মিনা ও আরাফাত এলাকায় পানির সূক্ষ্ম কুয়াশা ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের মধ্যে ঠান্ডা পানির বোতল বিতরণ এবং মিনার তাঁবুগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. আমিনুল ইসলাম

শাহরাস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আমিনুল ইসলাম (অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদা) আগামী ৩০ মে চাঁদপুর সফরে আসবেন। সফরকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে সফরকালে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

পত্র অনুযায়ী, সফরসূচিতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আমিনুল ইসলাম সড়কপথে নিজ বাসভবন থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ-কুমিল্লা-গৌরীপুর হয়ে চাঁদপুরে পৌঁছাবেন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী পাঁচগাঁও এলাকার তওহাদার বাড়ি (এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা) অবস্থান করবেন।

সফর শেষে বিকেলে তিনি পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সফরকালে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, চাঁদপুর সদর মডেল থানা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ও অবস্থানকালীন সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ মে নির্ধারিত এ সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।